দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা: বিক্ষোভ অব্যাহত ১২ আসামির রিমান্ড
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) গণপিটুনি দিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে নিহত দীপুর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়। ঘটনার পর থেকে পরিবারটির বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) গণপিটুনি দিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে নিহত দীপুর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়। ঘটনার পর থেকে পরিবারটির বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ভালুকার তারাকান্দায় নিহত দীপুর বাড়িতে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে ২৫ হাজার টাকা, শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। পাশাপাশি দীপুর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহ নগরী ও তারাকান্দায় একাধিক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সচেতন ময়মনসিংহবাসী’র ব্যানারে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত দীপুর ছোট ভাই অপু দাস, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আল নুর মো. আয়াস, হৃদয় খান, সাংবাদিক মোজাম্মেল খোকন ও কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা।
একই দাবিতে তারাকান্দা বাজারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট ও নিহতের পরিবার মানববন্ধন করে। এতে সংগঠনের উপজেলা সভাপতি বিজন কুমার ভৌমিক রতন, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শর্মা সরকার কাঞ্চনসহ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। বক্তারা কারখানার মালিকসহ প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার এবং দীপুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
১২ আসামির রিমান্ড
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১২ আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের ৭ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন এই আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আশিকুর রহমান (২৫), কাইয়ুম (২৫), মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজাম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), মো. আজমল হাসান সগীর (২৬), মো. শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল (২১)।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক শেখ মোস্তাছিনুর রহমান জানান, পুলিশ পাঁচ দিন করে রিমান্ড চাইলেও আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেছেন।
ঘটনার পটভূমি
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু দাসকে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তাঁর মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০–১৬০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন।
ডালাস প্রতিবেদক, ঢাকা