মিনিয়াপোলিসে আইসিই গুলির ঘটনায় প্রশাসনের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ, ভিডিওতে মিলছে ভিন্ন চিত্র

মিনিয়াপোলিসে এক ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। একাধিক কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গুলি ছোড়ার সময় ওই এজেন্ট নিহত নারীর এসইউভির সামনে ছিলেন না—যা প্রশাসনের ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Jan 8, 2026 - 13:37
মিনিয়াপোলিসে আইসিই গুলির ঘটনায় প্রশাসনের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ, ভিডিওতে মিলছে ভিন্ন চিত্র
ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড। ছবি: সংগৃহীত

মিনিয়াপোলিসে এক ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। একাধিক কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গুলি ছোড়ার সময় ওই এজেন্ট নিহত নারীর এসইউভির সামনে ছিলেন নাযা প্রশাসনেরআত্মরক্ষামূলক গুলিদাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বুধবারের ওই ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, গাড়ির নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কা করেই ইমিগ্রেশন এজেন্ট  আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, নিহত নারী রেনি নিকোল গুড ছিলেন একজন ‘সহিংস দাঙ্গাকারী’। তাদের দাবি, তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ট্রুথ সোশালে পোস্টে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, একজন আইসিই কর্মকর্তা ‘নৃশংসভাবে’ গাড়ির নিচে পড়েছিলেন।

তবে তিনটি ভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করা বাইস্ট্যান্ডার ভিডিওতে দেখা যায়, গুলি ছোড়ার মুহূর্তে গাড়িটি এজেন্টের দিক থেকে সরে যাচ্ছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার আগে নিহত নারীর মেরুন রঙের এসইউভিটি রাস্তার মাঝখানে থেমে ছিল। আশপাশে কয়েকটি বেসামরিক চিহ্নবিহীন ফেডারেল গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেন, গাড়িটি কর্মকর্তাদের পথ আটকে রেখেছিল। সময় উপস্থিত লোকজন ফেডারেল এজেন্টদের দিকে চিৎকার করেন শিস দেন।

এরপর ফেডারেল গাড়িগুলো সাইরেন লাইট জ্বালিয়ে এসইউভিটির দিকে এগোতে থাকে। একজন এজেন্ট মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। চালক সামান্য সামনে এগিয়ে বাঁ দিকে ঘুরে আবার থেমে অন্যদের যেতে ইশারা করেন। কিছুক্ষণ পর দুই এজেন্ট একটি রুপালি পিকআপ থেকে নেমে গাড়িটির দিকে হাঁটেন। মুহূর্তের মধ্যেই গুলির শব্দ শোনা যায়।

ফুটেজে দেখা যায়, এক এজেন্ট গাড়িটির চারপাশে ঘুরে ভিডিও করতে করতে দৃশ্যের বাইরে চলে যান। অন্য এজেন্টরা চালককে গাড়ি থেকে নামতে নির্দেশ দেন; একজন দরজার হাতল ধরেন ভেতরে হাত বাড়ান। তখন এসইউভিটি পেছনে গিয়ে ডান দিকে ঘুরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। একই সময়ে ভিডিও ধারণকারী এজেন্ট গাড়ির বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে অস্ত্র বের করে কাছ থেকে গুলি চালান এবং গাড়িটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ও গুলি অব্যাহত রাখেন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গুলি ছোড়ার মুহূর্তে এজেন্ট গাড়িটির বাঁ পাশে ছিলেন এবং গাড়ির চাকা ডান দিকেএজেন্টের বিপরীত দিকেঘোরানো ছিল। ফলে গাড়িটি এজেন্টকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিলএমন অভিযোগের সঙ্গে এই দৃশ্য মিলছে না।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অন্য একটি নিম্নমানের ভিডিওর কথা উল্লেখ করে বলেন, এজেন্টকে গাড়ি আঘাত করেছিল। তবে বিভিন্ন ক্লিপ একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে স্পষ্ট হয়, এজেন্টকে চাপা দেওয়া হয়নি; বরং তাঁর পা গাড়ির দিক থেকে দূরে ছিল।

শেষ পর্যন্ত এসইউভিটি সামনে পার্ক করা একটি সাদা গাড়িতে ধাক্কা খায়। একজন পথচারী দৌড়ে ঘটনাস্থলে যান। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি চিকিৎসা দিতে তৎপর হননি। পরে গুলি চালানো এজেন্ট গাড়ির কাছে গিয়ে আবার ফিরে এসে সহকর্মীদের ৯১১- ফোন করতে বলেন।

সময় কয়েকজন বাইস্ট্যান্ডার, একজন চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আহতকে সাহায্য করতে চাইলে এজেন্টরা বাধা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক এজেন্ট, গুলি চালানো এজেন্টসহ, নিজেদের গাড়িতে উঠে সেখান থেকে চলে যান, যা সক্রিয় অপরাধস্থল পরিবর্তনের অভিযোগও উসকে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি