ইরান যুদ্ধে ১৫ দিনে ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ, হোয়াইট হাউসের উদ্বেগ
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর ১৫ দিনে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ১২ বিলিয়ন (১,২০০ কোটি) ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর ১৫ দিনে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে ১২ বিলিয়ন (১,২০০ কোটি) ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট রোববার সিবিএস-এর ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে যুদ্ধ ব্যয়ের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
প্রথমে মনে হয়েছিল তিনি এই সংখ্যাটিকে পুরো যুদ্ধের সম্ভাব্য মোট ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সিবিএস উপস্থাপক মার্গারেট ব্রেনান উল্লেখ করেন, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই শুধুমাত্র গোলাবারুদ বা সমরাস্ত্র খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে—হ্যাসেট এই চ্যালেঞ্জটির সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
তা সত্ত্বেও, হ্যাসেট মার্কিন অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি চুক্তির ভবিষ্যৎ বাজার দর ইতিমধ্যে দ্রুত সমাধান এবং জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পূর্বাভাস দিচ্ছে। তবে তার এই বক্তব্য পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে মার্কিন গ্রাহকদের মধ্যে থাকা উদ্বেগের সম্পূর্ণ বিপরীত।
বিশ্বের তেলের সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, সেখানে ইরানের হুমকির কারণে বাজার এখনো অস্থির রয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, পারস্য উপসাগরের শিপিংয়ে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে তা ওই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি বলেন, ‘ইরানিরা যা করছে তার কারণে আমেরিকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৭০-এর দশকের মতো পরিস্থিতি এখন নেই, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেই একটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের প্রচুর তেল রয়েছে।’
এদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ ‘নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে’, যা ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধের ব্যয়ের খতিয়ান কেবল এক দিকেই (উপরের দিকে) যাচ্ছে। ব্যয় নিয়ে এই বিভ্রান্তির পাশাপাশি যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য বারবার বদল হয়েছে—কখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, কখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনা, আর এখন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ইস্যুতে দেশটির তেল অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মার্চের শুরুতে সিনেটের এক গোপন ব্রিফিংয়ের পর, সিনেট বিরোধীদলীয় নেতা চাক শুমার বলেন, তিনি ‘মিশন ক্রিপ’ (মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি) নিয়ে সত্যিই চিন্তিত। তিনি এই অধিবেশনটিকে ‘অত্যন্ত অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন যে কেন এই হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে প্রশাসন প্রতিদিন ‘ভিন্ন ভিন্ন উত্তর’ দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন আল জাজিরাকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই বিপদে জড়িয়ে পড়েছে।’
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা