জীবন বাঁচানোর চেয়ে বিল আদায়েই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল ‘কাচ্চি ভাই’
আগুন লাগার পর আতঙ্কিত গ্রাহকেরা যাতে বিল না দিয়ে বের হতে না পারে সে জন্য ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের মূল ফটকে তালা লাগানো হয়েছিল। রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
আগুন লাগার পর আতঙ্কিত গ্রাহকেরা যাতে বিল না দিয়ে বের হতে না পারে সে জন্য ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের মূল ফটকে তালা লাগানো হয়েছিল। রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল সেই অগ্নিকাণ্ডে। ওই ঘটনার দুই বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক তথ্য— আগুনে আতঙ্কিত গ্রাহকরা যখন জীবন বাঁচাতে নামার চেষ্টা করছিলেন, তখন কেউ যাতে খাবারের বিল না দিয়ে যেতে পারে সেজন্য রেস্টুরেন্টের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল 'কাচ্চি ভাই' কর্তৃপক্ষ। ভবনের ছাদের গেটটিও তালাবদ্ধ থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এতে কাচ্চি ভাইসহ ভবনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিক-ম্যানেজারসহ মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্তে বলা হয়, ভবনের ছাদের গেটও তালাবদ্ধ ছিল। ফলে আগুনের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে আটকা পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে, নিচতলার ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপের একটি ইলেকট্রিক কেটলি থেকে। সেদিন লিপ ইয়ার উপলক্ষে ছাড় থাকায় ভবনে অতিরিক্ত ভিড় ছিল।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, জীবন বাঁচাতে যখন সবাই ছুটছিল, তখন গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আটতলা ভবনটির বড় অংশই অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। কোনো রেস্টুরেন্টের বৈধ কাগজপত্র ছিল না, ছিল না ভেন্টিলেশন ব্যবস্থাও। একমাত্র সিঁড়িতেই রাখা ছিল দাহ্য গ্যাস সিলিন্ডার।
মামলায় জড়িত থাকলেও মৃত্যুর কারণে দুজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া প্রমাণ না পাওয়ায় আরও দুজনকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল মামলার চার্জ গঠন শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাচ্চি ভাই ও তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ। তার দাবি, গেটে তালা দেওয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন; বরং তাদের কর্মীরাই উদ্ধার কাজে সহায়তা করেছেন।
উল্লেখ্য, ওই অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়—এর মধ্যে ৩ জন আগুনে পুড়ে এবং ৪৩ জন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে প্রাণ হারান।
তথ্যসূত্র: টিবিএস