ইরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহ ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

Jan 11, 2026 - 23:31
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ পদক্ষেপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন
চলমান বিক্ষোভে পাঁচ শরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। ছবি: বিবিসি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপসহঅত্যন্ত কঠোরপদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শিগগিরই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

রোববার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী পর্যালোচনা করছে। আমরা খুবই কঠোর কিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছি।তিনি যোগ করেন, ‘শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, সামরিক হামলার হুমকির পর ইরানের নেতারা আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নিয়ে একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আলোচনা বা বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য সামরিক -সামরিক হস্তক্ষেপের বিকল্প নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ অব্যাহত থাকলে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন ট্রাম্প।

ওই বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভ দমনে জড়িত ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা। পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হামলার বাইরে সাইবার অভিযানের কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে ইরানি সরকারের দমনমূলক সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম জানায়, এসব বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পকে গত কয়েক দিনে একাধিকবার ব্রিফ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, ইরানি সামরিক সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে সাইবার হামলা, শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা, এবং দেশটির জ্বালানি ব্যাংকিং খাতকে লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

ছাড়া ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ জোরদারে স্টারলিঙ্কের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প জানান, বিষয়ে তিনি স্টারলিঙ্কের মালিক ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এর আগে ২০২২ সালের বিক্ষোভের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ইন্টারনেট সহায়তার কথা বলেছিল।

তবে প্রশাসনের ভেতরেই উদ্বেগ রয়েছেইরানে সামরিক হামলা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে এবং বিক্ষোভকারীদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, হামলা হলে জনগণের একাংশ সরকারের পক্ষে একত্রিত হতে পারে কিংবা ইরান পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

এদিকে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে বা এর আশপাশে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি জাহাজগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরান যদি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রএমন ভয়াবহভাবে জবাব দেবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যেসব বিকল্প বিবেচনা করছেন, তার কোনোটিতেই ইরানে সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। আগামী সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন ট্রাম্প।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে দমন-পীড়ন তীব্র হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অন্তত ১০ হাজার ৬৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬৯ জন শিশু। এই সময়ে পাঁচ শরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন