রোহিঙ্গারা ছিল ‘পরিকল্পিতভাবে নির্মূলের লক্ষ্যবস্তু’: আইসিজেতে গাম্বিয়ার অভিযোগ
রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা চালিয়ে মিয়ানমার জাতিসংঘের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানিতে অংশ নিয়েছে গাম্বিয়া।
রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা চালিয়ে মিয়ানমার জাতিসংঘের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানিতে অংশ নিয়েছে গাম্বিয়া।
সোমবার আইসিজেতে শুনানির শুরুতে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী ডাওদা জালো বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা কোনো জটিল আইনি প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ। তাঁর ভাষায়, রোহিঙ্গারা ছিল ‘পরিকল্পিতভাবে নির্মূলের লক্ষ্যবস্তু’।
২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের সময় গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে। ওই অভিযানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মিলিশিয়াদের হামলার মুখে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
২০২০ সালে আইসিজে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে নিষিদ্ধ সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে হত্যা এবং গোষ্ঠীটিকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে অমানবিক জীবনপরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ও ছিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। গাজায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আনা অনুরূপ অভিযোগে আইসিজে কী অবস্থান নিতে পারে, সে বিষয়ে এটি ইঙ্গিত দিতে পারে।
চূড়ান্ত রায় পেতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। আইসিজের রায় কার্যকরের সরাসরি ব্যবস্থা না থাকলেও গাম্বিয়ার পক্ষে রায় গেলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইসিজের এই শুনানি চলবে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তথ্যসূত্র: এএফপি