বৃষ্টি ও বাঁধভাঙনে ডুবছে ধান, ডুবছে হাওরাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্নও
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে আবারও বাড়ছে দুর্ভোগ। সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ডুবছে পাকা ধান, নতুন করে আতঙ্কে পড়েছেন লক্ষাধিক কৃষক।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে আবারও বাড়ছে দুর্ভোগ। সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ডুবছে পাকা ধান, নতুন করে আতঙ্কে পড়েছেন লক্ষাধিক কৃষক।
শনিবার ভোর থেকে বৃষ্টির পর দুপুরে সাময়িক বিরতিতে ধান কাটতে নামলেও আবার পানি বাড়ায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের বোয়ালা হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় ৯১ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পূর্ণ হিসাব নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে, সামনে আরও তিন দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জেও পাহাড়ি ঢলে নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের কাটা ধান ও খড় ভেসে গেছে। শ্রমিক সংকটে ধান তুলতেও পারছেন না অনেকে।
নেত্রকোনায় পানি বেড়ে হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, কাটা ধান শুকাতে না পেরে পচে যাচ্ছে ঘরে। জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জলাবদ্ধতায় অন্তত ৫০০ হেক্টর বোরো ধান ও ৫০ হেক্টর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জেও ভারী বৃষ্টিতে ৭৫০ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি এবং আরও প্রায় ১,২০০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিলেও টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না। হাওরজুড়ে এখন একটাই শঙ্কা—বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাচ্ছে বছরের একমাত্র ফসল, আর সেই সঙ্গে কৃষকের স্বপ্নও।
ডালাস বার্তা ডেস্ক