‘চিকাস লোকাস’ ক্লাব ঘিরে যৌন পাচার চক্র, আরও চার ম্যানেজার আটক
আরলিংটনের প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব ‘চিকাস লোকাস’-কে কেন্দ্র করে চলমান যৌন পাচার তদন্তে আরও চার ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংগঠিত অপরাধে জড়িত থাকার নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে আরলিংটন পুলিশ।
আরলিংটনের প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদন ক্লাব ‘চিকাস লোকাস’-কে কেন্দ্র করে চলমান যৌন পাচার তদন্তে আরও চার ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংগঠিত অপরাধে জড়িত থাকার নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে আরলিংটন পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত অক্টোবর মাসে ‘অপারেশন সেফ স্টেজ’ নামের যৌথ অভিযানে ম্যাজেস্টি ড্রাইভে অবস্থিত ক্লাবটিতে বড় ধরনের অভিযান চালানো হয়। এরপর জব্দ করা ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা এটিকে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তদন্ত অনুযায়ী, ক্লাবের কর্মীরা টাকার বিনিময়ে অবৈধ যৌন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন এবং আয়ের একটি অংশ সরাসরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হতো। আগে গুরুতর দালালির (অ্যাগ্রাভেটেড প্রোমোশন অব প্রস্টিটিউশন) অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া দুই ম্যানেজার—২৫ বছর বয়সী ওজিয়েল রামোস ও ৪০ বছর বয়সী এরিয়েল তাপিয়ার বিরুদ্ধে এখন সংগঠিত অপরাধেও যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও চার ম্যানেজার। তারা হলেন—৩৭ বছর বয়সী ফ্র্যাঙ্ক বুদাই (৮ ডিসেম্বর, ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর), ২৭ বছর বয়সী ট্রেভর ব্রসেট (১৬ ডিসেম্বর, আরলিংটন পুলিশ), ৩০ বছর বয়সী জনাথন রিভেরা (১৪ নভেম্বর, আরলিংটন পুলিশ) এবং ৩২ বছর বয়সী অ্যালান সালসিডো (২৭ নভেম্বর, ডেন্টন কাউন্টি শেরিফের দপ্তর)।
তদন্তের আওতায় ক্লাবটির ভেতরে মাদক বিক্রির অভিযোগও উঠে এসেছে। গোপন অভিযানে ৩২ বছর বয়সী অ্যারন পেরেজকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি একাধিকবার গোপন গোয়েন্দাদের কাছে অবৈধ মাদক বিক্রি করেছেন। গত ২৪ অক্টোবর তাঁকে নিয়ন্ত্রিত মাদক উৎপাদন বা সরবরাহের তিনটি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
অক্টোবরের অভিযানে ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং টাস্ক ফোর্স ও টেক্সাস অ্যালকোহলিক বেভারেজ কমিশনসহ এক ডজনের বেশি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সংস্থা অংশ নেয়। সে সময় প্রায় ১৩ হাজার ডলার নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করা হয়।
আরলিংটন পুলিশের প্রধান আল জোন্স বলেন, ‘ট্যারান্ট কাউন্টিতে মানব পাচারের কোনো স্থান নেই। এই জঘন্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করব।’
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্লাবটির বিরুদ্ধে বেসামরিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে শহর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স ফোর