ডালাসে উচ্ছেদ সংকট চরমে, মাসে ৪ হাজারেরও বেশি মামলা
ডালাস কাউন্টিতে প্রতিমাসে গড়ে চার হাজারেরও বেশি উচ্ছেদ মামলা হচ্ছে। এসব মামলার অন্তত অর্ধেক ভুক্তভোগীই শিশুসন্তানসহ পরিবার, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সিঙ্গেল মায়েরা। নতুন এক বিশ্লেষণে এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ডালাস কাউন্টিতে প্রতিমাসে গড়ে চার হাজারেরও বেশি উচ্ছেদ মামলা হচ্ছে। এসব মামলার অন্তত অর্ধেক ভুক্তভোগীই শিশুসন্তানসহ পরিবার, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সিঙ্গেল মায়েরা। নতুন এক বিশ্লেষণে এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
চাইল্ড পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক বছরে ডালাস কাউন্টিতে উচ্ছেদের মামলা হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার। আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, মাসে হাজারেরও বেশি পরিবার এ মামলা খায়, সপ্তাহে গড়ে ৯৫০টি।
উচ্ছেদের পর চার সন্তান নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন তাশা ব্রুসার্ড, যিনি এখনো নতুন বাসার ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় নার্সিং ফ্যাসিলিটিতে কাজ করে তার মাসিক আয় ১,৬০০ ডলার। এই অর্থ দিয়ে ১,৭০০ ডলারের বাসা ভাড়াও হয় না। ফলে অতিরিক্ত কাজ, খাবারের জন্য ফুড ব্যাংক—সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে তাশা ব্রুসার্ডের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডালাস ইভিকশন অ্যাডভোকেসি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক মেলটন বলেন, কয়েক বছর আগেও ৯০০ ডলারে যেসব অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যেত, সেগুলোর ভাড়া এখন ১,৪০০ ডলার। কিন্তু আয় সে হারে বাড়েনি। ফলে কর্মজীবী একক মায়েরা দ্রুত উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে টেক্সাসের কঠোর আইন। যে আইনে এক মাস ভাড়া বকেয়া থাকলেই মামলা এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্ছেদ। এতে পরিবারগুলোর নতুন বাসা খোঁজা বা বকেয়া মেটানোর সুযোগ থাকে না। মামলার রেকর্ড থাকলে নতুন বাসা ভাড়াও পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডালাস ও ট্যারান্ট কাউন্টির আদালতগুলো এখন উচ্ছেদ মামলায় ঠাসা। বিচারকেরা বলছেন, খরচ বাড়ছে, আয় বাড়ছে না—আর বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো। টিকে থাকার জন্য নিত্যদিনের লড়াই-ই এখন ডালাসের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর নতুন বাস্তবতা।
অবস্থার উন্নতির জন্য আবাসন–অধিকারকর্মীরা তিনটি নীতিগত পরিবর্তন চান-বকেয়া ভাড়ার পরিশোধে ভাড়াটিয়াদের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রদান, এককালীন ভাড়া সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে কম খরচের আবাসন নির্মাণে সরকারি–বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। নীতিগত এ সব পরিবর্তন না হলে তাশা ব্রুসার্ডদের সংখ্যা দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫