ইরান যুদ্ধে মিত্রদের পাশে পাচ্ছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সহযোগিতা চাইলেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিসসহ বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সহযোগিতা চাইলেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিসসহ বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। দেশটির দাবি, এই পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্রদেশগুলোর কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে শুরুতে মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন ট্রাম্প। তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সেই উদ্যোগে অনীহা জানানো হলে তিনি মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তা কঠিন বলে জানায়, আর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
এরপর ন্যাটো জোটের সদস্যদের প্রতিও সহযোগিতার আহ্বান জানান ট্রাম্প। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির সুবিধাভোগী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা উচিত। অন্যথায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মিত্রদের অনাগ্রহ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কয়েকজন নেতা সহায়তার আগ্রহ দেখালেও নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। ব্রাসেলসে এক বৈঠকের আগে তিনি জানান, হরমুজে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে কী করা যায়, সে বিষয়ে ইউরোপীয় নেতাদের আলোচনা করা প্রয়োজন।
তবে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার উদ্যোগে অংশ নেবে না বার্লিন। ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিসও একই অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য বৃহত্তর কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না। অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে থাকলেও হরমুজে গিয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
এদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ৩ হাজার ৩৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫ বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েল।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ৩৭টি ড্রোন হামলার চেষ্টা, ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাও অব্যাহত রয়েছে ইরানে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিমান হামলায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানে এখনো হাজার হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে এবং সেগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি