১২ লাখে নায়ক সালমান শাহকে খুন, আসামির চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি
নব্বইয়ের দশকের ঢালিউডের রাজপুত্র সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্য যেন শেষই হচ্ছে না। আত্মহত্যা না হত্যা—প্রায় তিন দশক ধরে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নায়কের ভক্তরা। অবশেষে ২৯ বছর পর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়।
নব্বইয়ের দশকের ঢালিউডের রাজপুত্র সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রহস্য যেন শেষই হচ্ছে না। আত্মহত্যা না হত্যা—প্রায় তিন দশক ধরে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নায়কের ভক্তরা। অবশেষে ২৯ বছর পর সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়।
গত ২০ অক্টোবর মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের নির্দেশ দেন। এর পরদিনই রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম নতুন করে হত্যা মামলা করেন।
এ রায় ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদের দেওয়া বিস্ফোরক জবানবন্দি। ১৬৪ ধারায় দেওয়া সেই স্বীকারোক্তিতে রেজভী বলেন, ‘আমরাই সালমান শাহকে হত্যা করেছি। ঘটনাটাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছিল।’
রেজভীর দাবি, এটি ছিল ১২ লাখ টাকার একটি হত্যা চুক্তি। চুক্তিটি করেছিলেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, লুসি, প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গুলিস্তানের এক বারে খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ, রেজভীসহ কয়েকজনের বৈঠক হয়। সেখানে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় মোট ১২ লাখ টাকার। কাজ শেষে বাকি ৬ লাখ পরিশোধের কথা ছিল।
রেজভীর ভাষ্যমতে, হত্যার প্রস্তুতিতে আনা হয় প্লাস্টিকের দড়ি, সিরিঞ্জ ও রিভলবার। সেই রাতেই তারা সালমান শাহর বাসায় প্রবেশ করে। ঘুমন্ত সালমানকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করেন সামিরা। পরে সালমানের জ্ঞান ফিরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ইনজেকশন পুশ করা হয় এবং মৃত্যুর পর সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় লাশটি—যাতে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে অকালমৃত্যু হয় সালমান শাহর। শুরুতে একাধিক তদন্ত কমিটি এটি আত্মহত্যা বলেই উল্লেখ করে। কিন্তু পরিবার ও ভক্তরা সব সময় দাবি করে আসছেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে।
নতুন মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্যদের মধ্যে আছেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ, রুবি, সাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদ।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্ত। আদালতে নতুন করে শুরু হওয়া এই মামলায় অবশেষে বেরিয়ে আসবে কি ঢালিউডের সবচেয়ে আলোচিত মৃত্যুর আসল রহস্য—এখন এটাই দেখার।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ