কোপাকাবানায় শাকিরার কনসার্টে ২০ লাখ মানুষের ঢল
বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরার কনসার্টে ব্রাজিলের কোপাকাবানা সৈকত রূপ নেয় জন সমুদ্রে। শনিবার রাতে রিও ডি জেনিরোর এই সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত বিনামূল্যের কনসার্ট দেখতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়ো হন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র এডুয়ার্ডো ক্যাভালিয়ারে।
বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরার কনসার্টে ব্রাজিলের কোপাকাবানা সৈকত রূপ নেয় জন সমুদ্রে। শনিবার রাতে রিও ডি জেনিরোর এই সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত বিনামূল্যের কনসার্ট দেখতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়ো হন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র এডুয়ার্ডো ক্যাভালিয়ারে।
শাকিরার লাস মুহেরেস ইয়া নো লিয়োরান’ বা ‘নারীরা আর কাঁদে না’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের অংশ হিসেবে কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে শুরু হলেও অপেক্ষা ভক্তদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। মঞ্চে উঠতেই করতালি ও চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। ড্রোনের আলোয় আকাশে ভেসে ওঠে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি ব্রাজিল’ বার্তা, যা তৈরি করে আবেগঘন পরিবেশ।
কনসার্টে শাকিরা তাঁর জনপ্রিয় গান—হিপস ডোন্ট লাই, লা টর্চারা এবং লা বাইসাইক্লিটা পরিবেশন করেন। শেষ করেন আলোচিত ‘বিজেডআরপি মিউজিক সেশন ৫৩ / ৬৬’ দিয়ে, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন উঠে আসে। পারফরম্যান্সের ফাঁকে নারীদের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা নারীরা পড়ে গেলে আরও জ্ঞানী হয়ে আবার উঠে দাঁড়াই।’
দিনভর কনসার্ট ঘিরে সৈকতে জমে ওঠে ভিড়। খাবার-পানীয় ও নানা পণ্যের বিক্রি বাড়ে, অনেকে ভালোভাবে মঞ্চ দেখার জন্য বালুর ব্যাগ পর্যন্ত কিনেছেন। পর্যটকদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
শহর কর্তৃপক্ষের মতে, এই আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। এক সমীক্ষা বলছে, কনসার্ট থেকে প্রায় ৭৭৭ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল আয় হতে পারে, যা স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের কাছে এটি ছিল স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। সংগীত, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মেলবন্ধনে ইতিহাস গড়ল কোপাকাবানা সৈকত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিও ডি জেনিরোর মেয়র এই আয়োজনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে লেখেন, ‘নেকড়ে নারী রিওতে ইতিহাস গড়েছে।’
এর আগে একই স্থানে ম্যাডোনা ও লেডি গাগার কনসার্টেও হয়েছিল বিশাল দর্শকসমাগম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯০-এর দশক থেকেই ব্রাজিলের দর্শকদের সঙ্গে শাকিরার গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ এই বিপুল সাড়ার পেছনে বড় কারণ।
তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট