ইরানে নতুন হামলা হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’: ট্রাম্পকে পুতিনের সতর্কবার্তা
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা হলে এর পরিণতি ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ’ হবে। এমন সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা হলে এর পরিণতি ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ’ হবে। এমন সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বুধবার প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, আলোচনা ছিল ‘খোলামেলা ও কার্যকর’।
উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন ট্রাম্পকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে এর গুরুতর প্রভাব শুধু ইরান বা তার প্রতিবেশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক পদক্ষেপ’ বলেও উল্লেখ করেন পুতিন। তার মতে, এতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
রাশিয়া এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন উশাকভ। তার দাবি, মস্কোর উদ্যোগেই এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তবে ইরান প্রসঙ্গের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়ে পুতিন সহায়তা করতে আগ্রহী, তবে তিনি রুশ নেতাকে আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে।
উশাকভ জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে পুতিন বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন এবং দাবি করেন, রুশ বাহিনী ‘কৌশলগত সুবিধা’ ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে কিয়েভ সরকারের ভূমিকা নিয়েও দুই নেতার মূল্যায়নে মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উশাকভের দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার ইউরোপীয় সমর্থনে সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে।
এদিকে, রাশিয়ার ‘ভিক্টরি ডে’ উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন পুতিন। ৯ মে পালিত এই দিবসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির ওপর সোভিয়েত বিজয়ের স্মরণে উদ্যাপিত হয়। পুতিনের এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্পও, উল্লেখ করে যে এটি ‘যৌথ বিজয়ের স্মারক’।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা