ইরানের নতুন প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, ফের যুদ্ধের শঙ্কা

ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবকে “যথেষ্ট নয়” বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের ধারণা, যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে বড় কোনো অগ্রগতি নেই এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এমনটাই জানিয়েছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

May 18, 2026 - 20:55
ইরানের নতুন প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, ফের যুদ্ধের শঙ্কা

ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবকেযথেষ্ট নয়বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের ধারণা, যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে বড় কোনো অগ্রগতি নেই এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এমনটাই জানিয়েছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও একটি সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত শেষ করতে আগ্রহী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পাশাপাশি নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতেঅর্থবহ ছাড়দিতেও রাজি নয় তেহরান। পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসেরসিচুয়েশন রুমেজাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন ট্রাম্প।

এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, “ইরান যদি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে বোমার মাধ্যমেই আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার অ্যাক্সিওসের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্পও কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ইরান যদি নমনীয়তা না দেখায়, তাহলে তারা আগের চেয়ে আরও কঠিন আঘাতের মুখে পড়বে।

রোববার রাতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পাল্টা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পৌঁছায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন প্রস্তাবে আগের অবস্থান থেকে কেবলসামান্য পরিবর্তনআনা হয়েছে।

প্রস্তাবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি কিছুটা বিস্তারিত করেছে। কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা বা ইতোমধ্যে মজুত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকার দেয়নি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের তেল খাতে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারছি না। এখন আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে আছি। সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর পুরো চাপ এখন ইরানের ওপর। ইরানিদের এখন কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বাস্তবভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের বোমার মাধ্যমেই কথা বলতে হবে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটন তেহরান এখনও চুক্তির মূল শর্ত নিয়ে সরাসরি আলোচনায় যায়নি। বরং কীভাবে ভবিষ্যৎ আলোচনা এগোবে, সেই কাঠামো নিয়েই দুই পক্ষ পরোক্ষ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের মতে, ইরানের নতুন পাল্টা প্রস্তাব থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে, আরও মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন তেহরান। তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, একটি চুক্তির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনই বেশি আগ্রহী এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের পক্ষেই রয়েছে।

তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস