অভিবাসীদের শনাক্তে ট্রাম্পের ‘বাউন্টি হান্টার’ ব্যবহারের পরিকল্পনা
মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের অবস্থান নির্ণয়ে ‘বাউন্টি হান্টার’ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। দ্য ইন্টারসেপ্ট-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, এর জন্য আগ্রহী পক্ষগুলোকে প্রস্তাবও দিতে বলেছে।
মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের অবস্থান নির্ণয়ে ‘বাউন্টি হান্টার’ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। দ্য ইন্টারসেপ্ট-এর হাতে আসা নথি অনুযায়ী, এর জন্য আগ্রহী পক্ষগুলোকে প্রস্তাবও দিতে বলেছে।
বাউন্টি হান্টার বলতে সাধারণত এমন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা নির্দিষ্ট পুরস্কার বা অর্থের বিনিময়ে কোনো পলাতক ব্যক্তি বা লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।
নথি বলছে, প্রথম ধাপে চুক্তিভিত্তিক কোনো কোম্পানিকে ১০ হাজার অভিবাসীকে নির্বাসিত করার লক্ষ্যমাত্রার তথ্য প্যাকেজ দেয়া হবে; এরপর ধাপে ধাপে সংখ্যা বাড়িয়ে এক লক্ষে নেয়া হবে। কোম্পানির কাজ হবে আইসিই ফাইলে থাকা ঠিকানা যাচাই করা; ঠিকানা নিশ্চিত না হলে কর্মস্থল যাচাই করা বাধ্যতামূলক। যদি আইসিই’র তথ্য ভুল ধরা পড়ে, কোম্পানিকে নতুন অবস্থানের তথ্য দিতে হবে — ঠিকানা, ফোন, কর্মস্থল, যানবাহন, সম্পত্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ।
নথিতে বর্ণিত প্রস্তাবনায় ‘স্কিপ ট্রেসিং’এবং উন্নত অবস্থান অনুসন্ধানের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। আইসিই কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক প্রণোদনা শুরু করার কথাও বিবেচনা করছে। প্রথম চেষ্টায় সঠিক ঠিকানা শনাক্ত করলে বোনাস বা নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট শতাংশ লোকেশন নিশ্চিত করলে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কের অভিবাসন আইনজীবী লাটোয়া ম্যাকবিন পম্পি সতর্ক করে বলেছেন, ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ তার আশঙ্কা ‘এই প্রস্তাবের ফলে কোম্পানিগুলো কতজনকে শনাক্ত করতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে বোনাস পাবে— এতে মানুষ সংখ্যা হয়ে যাবে, আর বাড়বে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ, ভুলভাবে চিহ্নিতকরণ ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি।’
আইসিই ও ‘বাউন্টি হান্টার’দের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত কর্মকর্তারা স্বীকার করেননি। আন্তর্জাতিক বাউন্টি হান্টার ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট চাক জর্ডান জানিয়েছেন, তাদের কার্যক্রম জামিনভঙ্গ করে পালিয়েছে, তাদের ধরার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। এই বছরে মিশৌরি, মিসিসিপি ও অ্যারিজোনার মতো রাজ্যগুলোতেও ব্যক্তি-প্রণোদনা ভিত্তিক প্রস্তাব উঠেছিল, যা সমালোচনার মুখে বাতিল করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে নির্বাসিত করার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিলেন সেটি দ্রুত কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘বাউন্টি হান্টার’এর সম্ভাব্য ব্যবহারকে।
তথ্যসূত্র: এল পাইস