প্রায় ৩০ মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৩০ জন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনীতিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ৩০ জন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কূটনীতিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো।
আদেশপ্রাপ্ত অধিকাংশ রাষ্ট্রদূতকে জানুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ব ছেড়ে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পেশাদার ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা, যাঁদের নিয়োগ দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন এবং যাঁরা সিনেটের অনুমোদন পেয়েছিলেন। সাধারণত একজন রাষ্ট্রদূতের মেয়াদ তিন থেকে চার বছর হয়ে থাকে।
ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (এএফএসএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় পরিসরে ক্যারিয়ার রাষ্ট্রদূতদের একযোগে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সংগঠনের মুখপাত্র নিকি গেমার বলেন, অনেক রাষ্ট্রদূতকে হঠাৎ ফোনে জানানো হয়েছে, প্রত্যাহারের কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই। তাঁর মতে, এটি প্রচলিত নিয়ম ও স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
রাষ্ট্রদূত নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরনের প্রথা রয়েছে—ক্যারিয়ার কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত। রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তরা সাধারণত নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার সময় পদত্যাগ করেন। তবে ক্যারিয়ার কূটনীতিকরা প্রায়ই নতুন প্রশাসনেও তাঁদের দায়িত্ব চালিয়ে যান। ট্রাম্প প্রশাসন এই গণ-প্রত্যাহারের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি এবং প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে উপযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বে রাখার অধিকার রয়েছে।
কূটনীতিকদের মধ্যে প্রচলিত এক অনানুষ্ঠানিক তালিকা অনুযায়ী, সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রায় এক ডজন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক দেশে রাষ্ট্রদূতের পদ খালি রয়েছে, যেখানে ডেপুটি চিফ অব মিশন সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই সিদ্ধান্তে পররাষ্ট্র দপ্তরের ভেতরে মনোবল আরও নেমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এএফএসএর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ৯৮ শতাংশ কূটনীতিক কর্মপরিবেশের অবনতি ঘটেছে বলে মনে করছেন। জরিপে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের অধিকাংশই বাজেট সংকোচন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে বাড়তি জটিলতার কথা বলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাপক এই প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রভাব আরও দুর্বল করতে পারে, এমন সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে চীন কূটনৈতিক মিশনের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস