রাশিয়াকে এক ইঞ্চি জমিও দেবেন না জেলেনস্কি, তাহলে সমাধান কোন পথে
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি খসড়া প্রস্তাবে ভূখণ্ড ছাড়ের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কিয়েভ কোনোভাবেই রাশিয়াকে এক ইঞ্চি জমিও দেবে না।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি খসড়া প্রস্তাবে ভূখণ্ড ছাড়ের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কিয়েভ কোনোভাবেই রাশিয়াকে এক ইঞ্চি জমিও দেবে না।
লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার (৮ ডিসেম্বর) জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের কিছু দেওয়ার অধিকার নেই—না আমাদের আইনে, না আন্তর্জাতিক আইনে, না নৈতিকতার বিচারে। রাশিয়া সবসময়ই ভূখণ্ড চাইবে। আর আমরা কিছুই ছাড়তে চাই না—এটাই তো আমাদের লড়াইয়ের মূল কথা।”
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ইস্যুতে ওয়াশিংটন এখন আপসের পথ খুঁজছে বলেও মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট । তবে ২৮ দফার পুরোনো প্রস্তাব থেকে ‘সবচেয়ে অ্যান্টি-ইউক্রেনীয় অংশ বাদ দিয়ে’ ২০ দফার নতুন খসড়া তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে কিয়েভ আলোচনায় রাজি আছে—তবে কোনোভাবেই ভূমি ছাড়ের বিনিময়ে নয়।
খসড়ার অনেক বিষয়ই তাদের ‘ভালো লাগেনি’ জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, “তবে এটা আমেরিকার চেয়ে রাশিয়ার ওপর বেশি নির্ভর করছে। আমরা অবশ্যই এ নিয়ে কাজ করব।”
অর্থায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো কঠিন বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত। জেলেনস্কি বলেন, কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো দেশের তালিকায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রই আছে। তিনি আরেকটি ‘বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম’-ধরনের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি কোনোভাবেই চান না; বরং কংগ্রেসের অনুমোদিত আইনি বাধ্যবাধকতা চান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। তবে ইউরোপ এখনো স্পষ্ট করেনি—যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়া আবার হামলা শুরু করলে তারা কী করবে।
ওয়াশিংটনকে কতটা বিশ্বাস করেন—এমন প্রশ্নে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো “শক্তিশালী অংশীদার” এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে চান, যদিও তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রচেষ্টার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, তবে বলেন, বিদ্যুৎ–বিভ্রাটে ভোগা ক্লান্ত ইউক্রেনীয়দের কাছে এই যুদ্ধের মূল্য অনেক বেশি। তাঁর ভাষায়, “সবাই যুদ্ধ শেষ চাই, কিন্তু আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কীভাবে শেষ হবে। যাতে আবার যুদ্ধের ঝুঁকি না থাকে, কারণ আমরা রাশিয়াকে বিশ্বাস করি না।”
রাশিয়ার স্থগিত সম্পদ থেকে পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়ে ইউরোপকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ ঋণ বা অন্য কোনো পথ—যেভাবেই হোক এই অর্থ ছাড়া ইউক্রেন চলতে পারবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে গিয়ে কেবল অস্ত্র বিক্রি চালু রাখবে—এমন ব্যবস্থাও গ্রহণযোগ্য নয়।
কিন্তু জেলেনস্কি যেভাবে চাইছেন সেভাবে কী যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব? রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনঠাসা অবস্থা জেলেনস্কির দেশের। একের পর এক ইউক্রেনের অঞ্চল দখল নিচ্ছে রাশিয়া। তাদের আক্রমণের ব্যাপকতায় অপ্রস্তুত ইউক্রেনের সেনারা। এবং সেনাদের অনেকেই এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন-রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। আর এ ‘বিশ্বাসের’ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মধ্যে। এক পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ২০২২ সালে রাশিয়া পুরোদমে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার সেনা অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। আর দলত্যাগ করেছেন প্রায় ৫৪ হাজার। গত বছর থেকে এই সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার জন কর্মস্থল ছেড়েছেন এবং ২৫ হাজার সেনা দলত্যাগ করেছেন।
একদিকে সেনাসংকট, অন্যদিকে রাশিয়ার অগ্রগতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ পরিস্থিতিতে পছন্দের নয় এমন পথই কী বেছে নেবে ইউক্রেন!
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, আল জাজিরা