ট্রমা কাটাতে ‘হেভেনস ২৭’-এর পরিবারগুলোর নতুন থেরাপির খোঁজ
থ্যাঙ্কসগিভিং ক্রিসমাসের উৎসব ঘনিয়ে আসছে। তাই এখন ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করা, কেনা-কাটা, খাবার-দাবার তৈরি-আনন্দমুখর ছুটির প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। কিন্তু সময়টা দুঃস্মৃতি নিয়ে ফিরে আসে ওই ২৭ কিশোরির পরিবারের কাছে, যারা এই গ্রীষ্মে কার কাউন্টির ক্যাম্প মিস্টিকে বন্যায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
থ্যাঙ্কসগিভিং ক্রিসমাসের উৎসব ঘনিয়ে আসছে। তাই এখন ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করা, কেনা-কাটা, খাবার-দাবার তৈরি-আনন্দমুখর ছুটির প্রস্তুতি নেওয়ার সময়। কিন্তু সময়টা দুঃস্মৃতি নিয়ে ফিরে আসে ওই ২৭ কিশোরির পরিবারের কাছে, যারা এই গ্রীষ্মে কার কাউন্টির ক্যাম্প মিস্টিকে বন্যায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
সেই দুঃস্মৃতি কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে ‘হেভেনস ২৭’-এর পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত চিকিৎসাপদ্ধতি আরটিএম প্রোটোকল থেরাপির। এই থেরাপি যুদ্ধ ফেরত প্রবীণ সেনাদের পিটিএসডি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও খুব বেশি পরিচিত নয়। তবে ‘হেভেনস ২৭’-এর পরিবারগুলো এই থেরাপিতে আশার আলো দেখছে।
ডালাসের ক্যারি হান্না তার মেয়ে হ্যাডলিকে ক্যাম্প মিস্টিকের বন্যায় হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ৪ জুলাইয়ের সেই ঘটনার পর থেকে তিনি অনেক স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন—তিন মেয়ের মাঝের হ্যাডলির অনেক কিছুই আর মনে পড়ে না। স্বপ্ন দেখার ক্ষমতাও যেন হারিয়ে গেছে। ছবি বা ভিডিও দেখাও তাঁর জন্য কঠিন, কারণ বেশির ভাগ স্মৃতিই ম্লান হয়ে গেছে।
হান্নার বড় মেয়ে হারপার তখন ক্যাম্পে ছিল। বন্যার রাতের আতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি এবং বোনকে বাঁচাতে না পারার অপরাধবোধ—সব মিলিয়ে হারপারও গভীর ট্রমায় ভুগছেন।
ডালাসের হাউসন সেন্টারে মা–মেয়ে দুজনই শুরু করেন আটিএম চিকিৎসা। এতে থেরাপিস্টের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী সেশন—যেখানে ভীতিকর স্মৃতিগুলো বহুবার পুনরায় মনে করে ধীরে ধীরে সেই স্মৃতিকে শরীরের ভয়–প্রতিক্রিয়া থেকে আলাদা করা হয়। হাউসন সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ইভ ওয়াইলির ব্যাখ্যায়, এতে স্মৃতি মুছে যায় না, বরং তা মনে পড়লেও শরীর আর ভয় বা অসাড় প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
তিনটি সেশন শেষে হান্না জানান, মাথায় বারবার ঘুরতে থাকা দুঃস্বপ্নগুলো হালকা হয়েছে; তিনি এখন মেয়ে হ্যাডলির কথা বলতে পারেন ভেঙে না পড়েই। তার বড় মেয়ে হারপারের মধ্যেও ঝড়–বৃষ্টির ভয় কাটিয়ে ওঠায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
হান্নার চাওয়া—একদিন আবার মেয়েকে স্বপ্নে দেখতে পাবেন। থেরাপিস্টদের ভাষায়, এই চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ফল—মানুষ ফিরে পায় সেই সামর্থ্য, যেখানে স্মৃতি ব্যথা নয়, হয়ে ওঠে ভালোবাসার প্রকাশ।
হান্না ও হারপারের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে নিজেদের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হাউসন সেন্টার। আসছে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আরও বেশি রোগীকে আরটিএম প্রোটোকল থেরাপি দিতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে তারা।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫