পেনি বিদায় নিচ্ছে, আপনার জমে থাকা কয়েনের ভবিষ্যৎ কী

যুক্তরাষ্ট্রে ২৩২ বছরের পথচলার ইতি টেনে শেষবারের মতো পেনি মুদ্রণ করেছে ইউএস মিন্ট। ফিলাডেলফিয়ায় সপ্তাহ দুয়েক আগে ইউএস মিন্ট তাদের শেষ ব্যাচের এক সেন্টের মুদ্রা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিকে এগুলো বাজারে আসবে ঠিকই, তবে নতুন পেনি আর আসবে না—ফলে ধীরে ধীরে কমে যাবে বাজারে থাকা পেনির সংখ্যা।

Nov 28, 2025 - 21:44
পেনি বিদায় নিচ্ছে, আপনার জমে থাকা কয়েনের ভবিষ্যৎ কী
কয়েনের ব্যবহার কমে আসছে যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: এবিসি নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে ২৩২ বছরের পথচলার ইতি টেনে শেষবারের মতো পেনি মুদ্রণ করেছে ইউএস মিন্ট। ফিলাডেলফিয়ায় সপ্তাহ দুয়েক আগে ইউএস মিন্ট তাদের শেষ ব্যাচের এক সেন্টের মুদ্রা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিকে এগুলো বাজারে আসবে ঠিকই, তবে নতুন পেনি আর আসবে নাফলে ধীরে ধীরে কমে যাবে বাজারে থাকা পেনির সংখ্যা।

পেনি বন্ধ হওয়ার পেছনে বড় কারণ উৎপাদন ব্যয় নগদ টাকার ব্যবহার কমে যাওয়া। একসময় একটি পেনি তৈরি করতে খরচ হতো .৪২ সেন্ট, এখন সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে .৬৯ সেন্টে। অর্থাৎ কয়েনের মূল্যের চেয়েও তা তৈরিতে বেশি খরচ। তাছাড়া ক্যাশ ব্যবহারও ২০১৬ সালের ৩১ শতাংশ থেকে এখন নেমে এসেছে ১৪ শতাংশে।

ইতোমধ্যে কিছু রিটেইলার পেনি সংকটের অভিযোগ তুলেছে। অনেক দোকান লেনদেনে পেনি ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ নিকটতম নিকেলে রাউন্ডিংও করছেযেমন ম্যাকডোনাল্ডসসের কিছু শাখা, ওয়েন্ডিস এবং মিডওয়েস্টের কুইক ট্রিপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই খুচরা গুছিয়ে ফেলার ভালো সময়। ফিনান্সিয়াল প্ল্যানার ডেভিড রোজেনস্ট্রক বলেন, ‘মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমছে, জায়গা দখল করছে এবং ব্যবহারও কঠিন হচ্ছেতাই যত দ্রুত সম্ভব এগুলো বদলে ফেলা ভালো।

কেন এখনই খুচরা বদলানো জরুরি

খুচরা বদলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে

ব্যাংকে কয়েন জমা দেওয়া আগের মতো সহজ নেই। অনেক ব্যাংক লবিতে থাকা কয়েন-কাউন্টার সরিয়ে ফেলেছে। সুপারশপে থাকা কয়েন-কিয়স্কেও ফি দিতে হয়। ফলে ঘরে জমে থাকা খুচরা টাকাকে ক্যাশে বদলানো ঝামেলাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কমে আসছে পেনির ব্যবহার

কানাডার মতোই যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক দোকান ক্যাশ লেনদেনকে নিকটবর্তীনিকেল’- রাউন্ড করে দিচ্ছে। ওয়েন্ডিস, কিছু ম্যাকডোনাল্ডসের কিছু শাখা কুইক ট্রিপ ইতিমধ্যেই এমনটা করছে। অনেক দোকানে আবার স্পষ্ট লেখা—‘আমরা পেনি নেই না।

মুদ্রার মান কমছে

ঘরে রাখা কয়েনের ওপর কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে এর ক্রয়ক্ষমতাও কমে। ২০২০ সালে ১০০ ডলারের সমপরিমাণ খুচরা এখন প্রায় ২০ ডলার কম মূল্যমানের। অথচ এগুলো সঞ্চয়ী হিসাবে রাখলে বছরে শতাংশের্ও বেশি সুদ পাওয়া যেত।

আর্থিক উপদেষ্টা অ্যালভিন কার্লোস, যিনি ডিস্ট্রিক্ট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে কর্মরত তার পরামর্শ, আপনার ঘরে যেসব খুচরা টাকা জমে আছে, সেগুলো আগে বদলে নিন। তারপর সেই নগদ টাকা একটা উচ্চসুদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে রেখে দিনএতে অন্তত কিছু সুদ পাবেন, খুচরা হিসেবে পড়ে থাকলে তো কোনো লাভই হতো না।

তথ্যসূত্র: সিএনবিসি