হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মানবিক’ অভিযান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে সোমবার থেকেই অভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথে ইরানের অবরোধ ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

May 3, 2026 - 22:32
হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মানবিক’ অভিযান
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে সোমবার থেকেই অভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথে ইরানের অবরোধ ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমনামে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেই দেশগুলোর অনুরোধে, যাদের জাহাজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে। তিনি জাহাজগুলোকেনিরপেক্ষ নির্দোষবলে উল্লেখ করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, জাহাজগুলোকে নিরাপদে এই নিষিদ্ধ জলপথ থেকে বের করে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে, যাতে বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। তবে কোন দেশগুলো সহায়তা চেয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, অনেক জাহাজে খাদ্য নাবিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অভিযানে বাধা দিলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। যদিও তিনি এটিকেমানবিক পদক্ষেপহিসেবে বর্ণনা করেছেন, অভিযানটি কীভাবে পরিচালিত হবে বা ইরানের সঙ্গে কোনো সমন্বয় থাকবে কি নাতা পরিষ্কার নয়।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিতে যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনোকাল্পনিক পোস্টদিয়ে পরিচালিত হবে না।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে প্রণালিতে চলাচলের চেষ্টা করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এই প্রতিরক্ষামূলক মিশন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কী ধরনের সামরিক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সেন্টকম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, সংকীর্ণ এই জলপথে জাহাজকে সরাসরি পাহারা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, কারণ ইরানি ভূখণ্ড থেকে হামলার আশঙ্কা থাকে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা