সরকারি অচলাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব
সরকারি অচলাবস্থা তথা শাটডাউনের প্রভাবে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে এদিনই নতুন নির্দেশনায় বিমান চলাচল ৪ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
সরকারি অচলাবস্থা তথা শাটডাউনের প্রভাবে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে এদিনই নতুন নির্দেশনায় বিমান চলাচল ৪ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে এ নির্দেশনা কার্যকর করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ), যাতে বেতনবিহীনভাবে কাজ করা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারসহ অপরিহার্য কর্মীদের ওপর চাপ কিছুটা কমে।
অচলাবস্থা শুরুর পর থেকে অনেক কর্মী অসুস্থতার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকছেন বা বাড়তি আয়ের জন্য অন্য কাজ করছেন। ফলে জনবল সংকট মোকাবিলায় এফএএ জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষে ফ্লাইট কমানোর হার ১০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোতে প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ফ্লাইট কন্ট্রোলাররা টানা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, যা তাঁদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়িয়েছে।
এফএএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কন্ট্রোলারদের নিরাপত্তা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে ক্রমবর্ধমান চাপ উদ্বেগজনক।
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নিক ড্যানিয়েলস বলেন, ‘আমরা জানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সবকিছু করব, কিন্তু নিজেদের পকেট থেকে বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার খোলার আমাদের কংগ্রেসকে দরকার।’
৩৮ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ। বাজেট ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অচলাবস্থা কাটাতে না পারায় সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।
কংগ্রেসে সমঝোতার প্রচেষ্টা চললেও দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনড়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সিনেটের ‘ফিলিবাস্টার’ নিয়ম বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব রিপাবলিকানদেরই উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে আমেরিকান শ্রমিকরা স্বস্তি পায়।’
এদিকে সরকারি অচলাবস্থার কারণে বিমান চলাচল ছাড়াও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিসহ বহু ফেডারেল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।
তথ্যসূত্র: বিবিসি