গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’: কী পরিবর্তন আসবে রাষ্ট্র পরিচালনায়

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এদিন ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেবেন। তবে গণভোটে কোন ফল এলে কী হবে—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।

Feb 5, 2026 - 13:07
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’: কী পরিবর্তন আসবে রাষ্ট্র পরিচালনায়

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এদিন ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে বা বিপক্ষেহ্যাঁকিংবানা’ ভোট দেবেন। তবে গণভোটে কোন ফল এলে কী হবেতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের গণভোট মূলত সংবিধান সংস্কারকেন্দ্রিক। জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৩০টি প্রস্তাব নিয়ে গণভোট হচ্ছে। ব্যালটে চারটি প্রশ্নের একটি সেট থাকবে, যার পক্ষে বা বিপক্ষে একটি ভোট দিতে হবে।

গণভোটের ব্যালটে যে চারটি প্রশ্ন থাকবে

. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটেহ্যাঁজয়ী হলে সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলবে। সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ সদস্য। টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে ফিরবে। সংরক্ষিত নারী আসন বাড়ানো, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।

অন্যদিকে গণভোটেনাজয়ী হলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে না এবং বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোই বহাল থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে কোনো সীমা থাকবে না, সংসদ এককক্ষবিশিষ্টই থাকবে এবং অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের ফল যাই হোক, সংস্কারের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করবে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন