বজ্রপাতের কম্পনে মাটির নিচের মানচিত্র আঁকলেন পেন স্টেটের গবেষকরা

বজ্রপাতের শব্দতরঙ্গ থেকে সৃষ্ট ভূকম্পন ব্যবহার করে মাটির ১০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

Aug 21, 2026 - 19:29
বজ্রপাতের কম্পনে মাটির নিচের মানচিত্র আঁকলেন পেন স্টেটের গবেষকরা
উইকিমিডিয়া কমন্স: Tony Webster

বজ্রপাতের শব্দতরঙ্গ থেকে সৃষ্ট ভূকম্পন ব্যবহার করে মাটির ১০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

পেন স্টেটের ভূপদার্থবিদ তিয়েউয়ান ঝু ও তার সহকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি পার্ক ক্যাম্পাসের ফাইবার-অপটিক কেবলে ধরা আড়াই বছরের ভূকম্পন তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, যাতে ৪৫০টিরও বেশি বজ্রকম্পনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণাপত্রটি গত ২১ আগস্ট শুক্রবার জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হয়।

বজ্রপাতের শব্দতরঙ্গ শুধু বায়ুতে নয়, মাটিতেও প্রবেশ করে ক্ষুদ্র কম্পন তৈরি করে, যা মানুষের পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। পেনসিলভানিয়ার স্টেট কলেজ শহরে মাটির প্রায় এক মিটার নিচে পাতা চার কিলোমিটার টেলিযোগাযোগ ফাইবার-অপটিক কেবল ওই কম্পন শনাক্ত করে। কম্পনের চাপে কেবলের ভেতর দিয়ে আলোর যাতায়াতের সময় সামান্য বাড়ে, যা পরিমাপযোগ্য সংকেত হিসেবে কাজ করে।

ক্যাম্পাসের নিচে চুনাপাথরে ভরা মাটিতে এর আগে অজানা বেশ কয়েকটি দুর্বল অঞ্চল শনাক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাটি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মাটিতে খোঁড়া গর্তের তথ্য ও কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পাওয়া ভূমি বিকৃতির তথ্য দিয়ে এই ফলাফল যাচাই করা হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, একটি ঝড়ে বজ্রপাতের সংকেত কয়েক দশ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঢেকে নিতে পারে, যা প্রচলিত ভূকম্পন জরিপের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী; শহরে ইতিমধ্যে পাতা ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে এটি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে শনির চাঁদ টাইটানের মতো ঝড়-প্রবণ জায়গায়ও এই পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠ অনুসন্ধান সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স নিউজ