বার্থ ট্যুরিজম ঠেকাতে টাস্কফোর্স গঠন করল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, বাতিল ৬০০ ভিসা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বার্থ ট্যুরিজম প্রতিরোধে একটি বৈশ্বিক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যা প্রথম মাসেই ৬০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বার্থ ট্যুরিজম ঠেকাতে একটি বৈশ্বিক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যেটি প্রথম মাসেই ৬০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প "বার্থ ট্যুরিজমের অবসান" শীর্ষক নির্বাহী আদেশে সই করেন। ছয় দিন পর পররাষ্ট্র দপ্তর এই টাস্কফোর্সের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, "নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয় যা ইমিগ্রেশন আইনের পরিকল্পিত শোষণের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।"
টাস্কফোর্সটি বিশ্বজুড়ে ভিসাধারীদের কার্যক্রম ও ভ্রমণ ইতিহাস পর্যালোচনা করে। পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার তথ্য একত্র করে সন্দেহভাজন বার্থ ট্যুরিজম চিহ্নিত করা, ভিসা বাতিল করা এবং এর থেকে মুনাফা অর্জনকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। কিছু অপারেটর ডুলা, মিডওয়াইফ বা ওয়েলনেস প্রোভাইডার সেজে ভিসা কোচিং ও হাসপাতাল সেবার ব্যবস্থা করছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর এমন একটি দম্পতির উদাহরণ দিয়েছে যারা কনফারেন্স ও শপিং ট্রিপের ছদ্মবেশে দুটি সন্তানের জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল এবং দুবার ভিসা আবেদনে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। আরেক ক্ষেত্রে, এক বিদেশি সরকারি কর্মকর্তা এক সপ্তাহের সফরের ভিসা নিয়ে তিন মাস থেকে সন্তানের জন্ম দেন। এসব ক্ষেত্রে ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ কেবল ভিসা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করে না। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গত ৩০ জুন ট্রাম্প বনাম বারবারা মামলায় রায় দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, "পররাষ্ট্র দপ্তর বার্থ ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এবং মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় সব উপলব্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস