এই লেবার ডে উইকেন্ডে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ জ্বালানির গড় মূল্য প্রতি গ্যালনে ৪.১৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা লেবার ডে উইকেন্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বিঘ্নই মূল কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মার্কিন অটোমোবাইল সংস্থা এএএ জানিয়েছে, জাতীয় গড়ে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম এখন ৫ দশমিক ৮৫ ডলার।
মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, প্রয়োজনে ইরানের সীমিত ও অরক্ষিত তেলবহর ধ্বংস করা হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ 'অনির্দিষ্টকাল' ধরে চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর। বৃহস্পতিবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ওয়াশিংটন এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে। এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলগাদর হুমকি বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, সামরিক প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধ ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।
ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর সামরিক জবাবের ঘোষণা দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম দাম ওই মাত্রা অতিক্রম করল।
ইরানে টানা দশম রাতের মতো বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাই নতুন হামলার অন্যতম লক্ষ্য।
ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সব বন্দরকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ (নেভাল ব্লকেড) পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি, সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতা একই সঙ্গে চলতে থাকায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন-ইরান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব স্তরে নেমেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ৭১ ডলারের নিচে নামে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সর্বনিম্ন।
ইরান কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ স্থান এবং উপকূলীয় রাডার সাইটে বিমান হামলা চালিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে।
হরমুজ প্রণালিতে টহলরত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরান গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে বৈশ্বিক তেলবাজারে দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেল উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের মিত্র ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং বাব এল-মান্দেবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলারের বেশি বেড়েছে।
পারস্য উপসাগরে চলমান যুদ্ধ এবং চীনের নতুন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শিল্প রাসায়নিক সালফিউরিক অ্যাসিডের বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এতে খাদ্য, ধাতু, কাগজ, কম্পিউটার চিপ, বিশুদ্ধ পানি ও ব্যাটারি শিল্পসহ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালিতে একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গঠিত সম্ভাব্য বহুজাতিক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে সোমবার থেকেই অভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথে ইরানের অবরোধ ভাঙার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান, তবে এর শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি চেয়েছে তেহরান। সোমবার আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা শুরু করেছে ইরান। তবে কূটনৈতিক তৎপরতার এই পর্যায়েও কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। শুক্রবার একদিনেই দাম কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দরপতন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটির নৌ কমান্ড।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একইসঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। গত দেড় মাসে অন্তত ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ডেটা সংস্থা।
পাকিস্তানে ব্যর্থ শান্তি আলোচনার পর ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দরে নৌ অবরোধ ওয়াশিংটন কার্যকর করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।