যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত, হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের মিত্র ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং বাব এল-মান্দেবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলারের বেশি বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের মিত্র ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং বাব এল-মান্দেবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলারের বেশি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ০২ ডলার বা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭ দশমিক ১৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৬৮ ডলার বা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ০৪ ডলারে।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে ইসরায়েল তার সেনাদের লেবাননের আরও অভ্যন্তরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এ জলপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গিয়েছিল। সে সময় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যথাক্রমে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং ১৭ শতাংশ কমে যায়। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ার পর সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যহ্রাস।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি নিয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ওই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স