ইইউর নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর, প্রস্তুতি ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি শুক্রবার কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের বিতর্কের পর গৃহীত এই নীতিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি শুক্রবার কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের বিতর্কের পর গৃহীত এই নীতিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন নতুন ব্যবস্থাকে ন্যায়সঙ্গত ও দৃঢ় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই নীতি ইউরোপের বাহ্যিক সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করবে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি বাড়াবে এবং আশ্রয় ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে।
নতুন ব্যবস্থায় ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে আবেদনকারীদের তথ্য অনুসরণ, দ্রুত আবেদন যাচাই এবং সীমান্ত প্রক্রিয়ায় নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইইউর ২৭ সদস্য দেশের প্রস্তুতি সমান নয়। জার্মানির কেন্দ্র-বাম ইউরোপীয় সংসদ সদস্য বিয়ারগিত সিপেল বলেছেন, প্রায় কোনো দেশই পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, যা হতাশাজনক; কারণ প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইউরোপে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমে আরও কঠোর হয়েছে। মিশ্র অভিবাসন কেন্দ্রের গবেষক রোবের্তো ফোরিন বলেছেন, আগে যে অবস্থানকে অচিন্তনীয় মনে করা হতো, তা এখন নির্বাচনী রাজনীতির চাপের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তাঁর মতে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও দমন-পীড়ন থেকে পালানো মানুষ শুধু নীতিগত বাধার কারণে যাত্রা বন্ধ করেন না।
নতুন নীতিতে সংহতি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে যেসব দেশে আশ্রয় আবেদন তুলনামূলক কম, তাদের বেশি আবেদন পাওয়া দেশগুলোকে আবেদনকারী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা বা পরিচালনাগত সহায়তার মাধ্যমে সাহায্য করতে হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে শক্তিশালী বাধ্যবাধকতা না থাকায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নতুন কাঠামো আশ্রয়ের সুযোগ সীমিত করতে পারে এবং আটককেন্দ্রের ব্যবহার বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় আটক থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করতে ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রিসভিত্তিক অধিকার সংস্থা রিফিউজি সাপোর্ট এজিয়ানের আইনজীবী মিনোস মৌজুরাকিস সতর্ক করেছেন, দুর্বল আইন এবং মান বজায় রাখার অনীহা অধিকার সুরক্ষাকে আরও দুর্বল করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স