চুক্তি নাকি হামলা—ইরান নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে চুক্তি ও নতুন হামলার মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—চুক্তি না হলে ইরানকে এমন আঘাত করা হবে, যা এর আগে কোনো দেশ দেখেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে চুক্তি ও নতুন হামলার মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—চুক্তি না হলে ইরানকে এমন আঘাত করা হবে, যা এর আগে কোনো দেশ দেখেনি।
শনিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পাঠানো খসড়া প্রস্তাব তিনি পড়েছেন এবং দুই পক্ষ এখন সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, “একটি খসড়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি ইরানকে জানানোর আগে সেটি প্রকাশ করতে পারি না। শুধু বলতে পারি, আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি।”
তবে একই দিনে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ভাষা ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। সেখানে তিনি বলেন, “হয় আমরা একটি চুক্তি করব, না হয় ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন আঘাত হানব।”
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ১৩তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতির গুঞ্জন ছড়িয়েছে ওয়াশিংটনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই বেড়েছে যে ট্রাম্প নিজের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানও বাতিল করেছেন।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ১৪ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে। এতে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার রাতেই তিনি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন। রোববারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন—চুক্তি হবে, নাকি আবারও হামলা শুরু হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন অসীম মুনির। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান চলতি সপ্তাহে তেহরানে অবস্থান করে দুই পক্ষকে আলোচনায় ধরে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব রয়েছে।
শনিবার বিকেলে ট্রাম্প সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যৌথ কনফারেন্স কলে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, “আজ রাত কিংবা আগামীকালের মধ্যে বড় কোনো খবর আসতে পারে। পর্দার আড়ালে ব্যাপক আলোচনা চলছে।”
তথ্যসূত্র: এএফপি, সিবিএস নিউজ