ইরানের রাডার ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা, কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা হামলা ইরানের

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তেহরান।

Jun 6, 2026 - 20:24
ইরানের রাডার ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা, কুয়েত-বাহরাইনে পাল্টা হামলা ইরানের
হরমুজ প্রণালীর কাছে উপসাগরে পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তেহরান।

স্থানীয় সময় শনিবার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন।

পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের নজরদারি কেন্দ্র এবং রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর গুলি চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়।

ইরান দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং আরেকটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বারবার সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় এখনো কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

তেহরান চুক্তির অংশ হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ব্যবহারের সুযোগ, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে ইরান কার্যত প্রণালিটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার দাবি দেশটির ভেতরে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেলেও দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এখনো আছে। হয়তো আগের সক্ষমতার ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। সেটিও যথেষ্ট বড় সক্ষমতা। তবে যুদ্ধের শুরুতে তাদের যে সামরিক শক্তি ছিল, এখন তা আর নেই।”

ইরানের নেতারা কেন দ্রুত সমঝোতায় আসছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা শক্তিশালী ও গর্বিত। তাদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা তারা আগে কখনো ভাবেনি। তবে এসবের জন্য সময় লাগে।”

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স