পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে আরও চাপ দরকার: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনার টেবিলে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

May 31, 2026 - 20:18
পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে আরও চাপ দরকার: জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সিবিএস নিউজ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনার টেবিলে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর চাপ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, শীত শুরুর আগেই কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনায় বসার একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে। তাঁর মতে, আগামী ছয় মাসে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সাফল্য ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সম্প্রতি যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর অগ্রগতির গতি কমে এসেছে, অন্যদিকে ইউক্রেন নতুন কৌশল প্রয়োগ করে যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্যোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছেন।

সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলা চালায়, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় আকাশ হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাসে ৬০ থেকে ৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। উৎপাদন বাড়াতে হবে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকেও আরও বড় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইউক্রেন রাশিয়াকে নিয়ে একটি যৌথ আলোচনার কাঠামোকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে করেন।] তাঁর ভাষায়, “ইউক্রেন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপএই চার পক্ষকে নিয়ে গঠিত আলোচনা কাঠামোই সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকর হতে পারে।

জেলেনস্কি আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি সরাসরি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুত। তবে তার আগে রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আরও নিষেধাজ্ঞা আরও চাপ প্রয়োজন। তখনই তারা সংলাপে বসতে প্রস্তুত হবে।

রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গ টেনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি রাশিয়াকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথ বেছে নিতে বাধ্য করতে পারে।

ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ড্রোন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে ড্রোন চুক্তি হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তির প্রস্তুতি চলছে। একই ধরনের সহযোগিতা ওয়াশিংটনের সঙ্গেও হবে বলে তিনি আশা করছেন।

জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা একত্রিত হলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ