হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ট্রাম্পের, পাল্টা হুমকি ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তা না হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে,হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তা না হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে,হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করবে।
তিন সপ্তাহের সংঘাতের পর এর আগে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, এক দিনের ব্যবধানে অবস্থান বদলে কঠোর হুঁশিয়ারিতে ফেরেন ট্রাম্প। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ কার্যত অচল রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান শুধু সেসব দেশের জাহাজে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত। অন্য দেশের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথাও জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানি বাহিনীও পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরান বলছে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তা অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস করা হবে’।
দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারও সতর্ক করে বলেছেন, এতে তেলের দাম ‘দীর্ঘ সময় ধরে বাড়বে’ এবং তাদের বাহিনী ‘অপরিবর্তনীয় ক্ষতি’ সাধন করবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শনিবারের হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর জবাবের অঙ্গীকার করে বলেছেন, সব দিক থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। দিমোনা শহরে আহত হয়েছেন আরও ৩৩ জন। শহরটিতে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, দিমোনার একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, এতে এক শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পরে ইসরায়েল পাল্টা তেহরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনাতেও তারা হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট