শান্তি আলোচনায় পুতিন রাজি হতেই কিয়েভে ভয়াবহ হামলা, নিহত ২
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন নিয়ে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন নিয়ে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও পুতিন। সেই বৈঠকে উইটকফের অনুরোধে আগামী ১০ নভেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হন পুতিন। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভে হামলা শুরু হয়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে তাঁরা সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, কিয়েভের ওপর তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যার একটিতে ক্লাস্টার বোমাও ব্যবহৃত হয়। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা যায়নি, কারণ দেশটিতে মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট চলছে। একই দিন রাশিয়ার হামলায় খারকিভ অঞ্চলের লোজোভা শহরের একটি বাজারে অন্তত দুজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
জেলেনস্কি এই হামলাকে রুশ মানবতাবাদীদের জবাব আখ্যা দিয়ে বলেন, আলোচনার প্রতি রাশিয়ার মনোভাবে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে পুতিন ইউক্রেনে আটক থাকা ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিতে রাজি হন, যিনি চার বছরের বেশি সময় রাশিয়ায় আটক ছিলেন। এই মুক্তির জন্য উইটকফ পুতিনকে মানবতাবাদী বলে বর্ণনা করলে তা বিতর্কের জন্ম দেয়।
ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, আগামী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে। তবে রাশিয়া এখনো দনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া ও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সংকুচিত করার দাবিতে অনড় রয়েছে। অতীতে একাধিকবার আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাতিল হওয়ায় ইউক্রেন এবারের উদ্যোগ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে।
সূত্র: সিএনএন