ব্রুকলিনের ক্রিপ্টো তদন্তকারীদের অভিযানে ভেঙে পড়ল বিশ্বজোড়া প্রতারণা চক্র

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের ভার্চুয়াল কারেন্সি ইউনিট (ভিসিইউ) এফবিআইয়ের সহায়তায় রুশভাষী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বহুজাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছে। অভিযানে ২৪১টি জালিয়াতি ওয়েব ডোমেইন ও ১১২টি ক্লাউড সার্ভার জব্দ ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিসের পরিচালিত সাইবার অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ।

Oct 21, 2026 - 10:11
ব্রুকলিনের ক্রিপ্টো তদন্তকারীদের অভিযানে ভেঙে পড়ল বিশ্বজোড়া প্রতারণা চক্র
উইকিমিডিয়া কমন্স: Beyond My Ken

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের ভার্চুয়াল কারেন্সি ইউনিট (ভিসিইউ) এফবিআইয়ের সহায়তায় রুশভাষী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি বহুজাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছে। অভিযানে ২৪১টি জালিয়াতি ওয়েব ডোমেইন ও ১১২টি ক্লাউড সার্ভার জব্দ ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিসের পরিচালিত সাইবার অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ।

গত ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গনজালেজ এই অভিযানের কথা জানান। তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্য প্রান্তে বসে যখন প্রতারকেরা ব্রুকলিনের বাসিন্দাদের টার্গেট করে, তাদের জানা উচিত তারা আমাদের নাগালের বাইরে নয়। এই অপরাধীরা রুশভাষী ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার চুরি করেছে।"

তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারকেরা ফেসবুকে রুশ ভাষায় বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুক্তভোগীদের আকৃষ্ট করত। এরপর রুশ ভাষায় কথা বলা ভুয়া "বিনিয়োগ উপদেষ্টা" ফোন করে তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে ও জালিয়াতি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে পাঠাতে প্রলুব্ধ করত। কয়েক সপ্তাহ বা মাস "বিনিয়োগের" পর ভুক্তভোগীরা টাকা তুলতে গেলে তাদের অ্যাকাউন্ট লক করে দেওয়া হতো অথবা অতিরিক্ত ফি ও ট্যাক্সের নামে আরও অর্থ দাবি করা হতো।

প্রতারকেরা এতেই থামেনি। প্রথম প্রতারণার কয়েক সপ্তাহ পর তারা আবার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুরি হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিত, যা ছিল দ্বিতীয় দফার প্রতারণা। প্রতারকেরা ইউক্রেন ও পূর্ব ইউরোপের আইপি অ্যাড্রেস ও সাইবার অবকাঠামো ব্যবহার করত। ভিসিইউ তিন টাইম জোন জুড়ে একযোগে সার্চ ওয়ারেন্ট কার্যকর করে।

এই অভিযানের আগে ভিসিইউ ইতোমধ্যে ৪০০টি ক্রিপ্টো বিনিয়োগ জালিয়াতি সংশ্লিষ্ট ডোমেইন জব্দ বা নিষ্ক্রিয় করেছিল। তবে ডোমেইন বন্ধ করলেও প্রতারকেরা দ্রুত নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করত। তাই এবার সরাসরি সার্ভার ও অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে, যাতে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি ও আগের ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা নষ্ট হয়। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ডলার চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করা সম্ভব হয়েছে এবং আরও অর্থ উদ্ধারের কাজ চলছে।

সূত্র: ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস