মাদক ব্যবহারকারীর অস্ত্র অধিকারের পক্ষে রায় সুপ্রিম কোর্টের
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক টেক্সাস ব্যক্তির অস্ত্র মামলায় সরকারের অবস্থান খারিজ করেছে। গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত বলেছে, শুধু মাদক ব্যবহারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার মামলা দ্বিতীয় সংশোধনীর সঙ্গে অসংগত।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে শুধুমাত্র অবৈধ মাদক ব্যবহার করার কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অস্ত্র রাখার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন দেওয়া এক সিদ্ধান্তে আদালত বলেছে, এমন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যদি না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিপজ্জনক হিসেবে প্রমাণ করা যায়।
মামলাটি টেক্সাসের বাসিন্দা আলি হেমানিকে ঘিরে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার পর মামলা করে। সরকারের দাবি ছিল, অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী হিসেবে তিনি অস্ত্র রাখার অধিকার হারিয়েছেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সরকার আদালতে এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যা দেখায় যে হেমানি অন্যদের জন্য হুমকি বা বিশেষভাবে বিপজ্জনক ছিলেন। ফলে শুধু মাদক ব্যবহারের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগ টিকতে পারে না।
রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে ফেডারেল অস্ত্র আইন পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বিচারপতিরা বলেছেন, যারা সহিংস আচরণ করে, মাতাল অবস্থায় অস্ত্র বহন করে বা অন্যভাবে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ সাংবিধানিক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রায়টি অস্ত্র অধিকার ও মাদক আইনের সংযোগ নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ হলেও ফেডারেল আইনে তা এখনও নিষিদ্ধ, সেখানে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের অস্ত্র রাখার ওপর ফেডারেল সীমাবদ্ধতা বহাল রেখেছিল। নতুন রায়ে আদালত আবারও ইঙ্গিত দিয়েছে যে অস্ত্র অধিকার সীমিত করতে হলে সরকারের কাছে ব্যক্তির বিপজ্জনকতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকতে হবে।
সূত্র: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, সিবিএস নিউজ