ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চূড়ান্তের পথে, খসড়ায় কিছু পরিবর্তন চান ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির খসড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

May 30, 2026 - 23:15
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চূড়ান্তের পথে, খসড়ায় কিছু পরিবর্তন চান ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আনাদোলু

ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির খসড়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প তাঁর দূতদের প্রস্তুত করা খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে তিনি কয়েকটি ধারা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে চান, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিই অনুমোদন করবেন, যা তাঁর নির্ধারিত লাল রেখাগুলো পূরণ করবে এবং নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

যদিও চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, তেহরান চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তারা এখনো চূড়ান্ত খসড়ায় অনুমোদন দেয়নি।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান খসড়া সমঝোতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কীভাবে সীমিত রাখা হবে।

তবে ট্রাম্প এই অংশে আরও স্পষ্টতা চান। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের পদ্ধতি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি নিয়ে খসড়ায় আরও নির্দিষ্ট ভাষা যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ব্যবহৃত কিছু ভাষাও সংশোধন করতে চান ট্রাম্প বলে জানিয়েছে আরেকটি সূত্র।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা আশা করছেন, সংশোধিত প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “একটি চুক্তি হবেই। এখন প্রশ্ন হলো, সেটি কত দ্রুত হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও ইঙ্গিত দিয়েছে যে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তারা দাবি করেছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরান স্থগিত থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সংঘাতের পর ওয়াশিংটন তেহরানের মধ্যে এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস