গ্রিন কার্ডে কড়াকড়ি: নিজ দেশে ফিরেই আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ আবেদনকারীকে এখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

May 23, 2026 - 21:21
গ্রিন কার্ডে কড়াকড়ি: নিজ দেশে ফিরেই আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের
অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিরা আর দেশটিতে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ আবেদনকারীকে এখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

২৩ মে সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিছাড়া স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন আর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে গ্রহণ করা হবে না।

এতদিন শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিরা দেশটির ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

ইউএসসিআইএসের মেমোতে বলা হয়েছে, এখন থেকে আবেদনকারীদের নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেকনস্যুলার প্রসেসিংসম্পন্ন করতে হবে। সংস্থাটির দাবি, এতে আবেদন বাতিল হওয়ার পরও যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের শনাক্ত ফেরত পাঠানো সহজ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর (ডিএইচএস) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, “আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের দিন শেষ।

ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক ক্যাহলার বলেন, সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার প্রবণতা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বেড়াতে আসাকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

তবে নতুন এই নীতির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে অভিবাসন অধিকারকর্মী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনেক আবেদনকারী হয়তো আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন না। দীর্ঘসূত্রতা অনিশ্চয়তার কারণে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়বে।

ইউএসসিআইএসের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন। এতে প্রতি বছর লাখ লাখ পরিবার নিয়োগকর্তা চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন।

অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি বৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন। নতুন নীতির ফলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে জমা দেওয়া আবেদনগুলো এই নিয়মের আওতায় পড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইউএসসিআইএস ইঙ্গিত দিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবেদন হয়তো আগের নিয়মেই চলতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা ইস্যুও স্থগিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই নীতি কার্যকর হলে বৈধ অবৈধউভয় ধরনের লাখো অভিবাসী অনিশ্চয়তা আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

ডালাস বার্তা ডেস্ক