যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএস এমন একটি চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করেছে, যার ফলে কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন বিচারাধীন থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ থাকার সুযোগ স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক কয়েকটি অভিবাসন শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক গ্রিন কার্ডধারীর মৃত্যু হয়েছে। তিন সন্তানের বাবা এমিলিয়ানো আন্দ্রাদে-কোভারুবিয়াসকে টেক্সাসের রিও গ্রান্দে প্রসেসিং সেন্টারে নিজের বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নভেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে, যেখানে পারিবারিক ভিসা ক্যাটাগরিতে কাটঅফ তারিখ প্রায় এক বছর এগিয়েছে। গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নভেম্বর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে, যেখানে বেশ কয়েকটি পারিবারিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। পারিবারিক ক্যাটাগরিতে এফ-ওয়ান, এফ-টুবি, এফ-থ্রি ও এফ-ফোরে বেশিরভাগ দেশের জন্য পুরো এক বছর এগিয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী মাহমুদ খলিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করেছেন, যাতে অভিবাসন সংক্রান্ত আটকের বৈধতা ফেডারেল আদালত দ্রুত পর্যালোচনা করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটকে কর্মীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যক্রম অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন "পাবলিক চার্জ" বিধি কার্যকর হয়েছে, যাতে সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী বা ভবিষ্যতে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকা আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হবে। বছরে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার আবেদনকারী এই পর্যালোচনার আওতায় পড়বেন।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম কার্যকর হবে। নতুন নিয়মে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা ও আবাসন ভর্তুকির ব্যবহার আবেদনকারীর বিরুদ্ধে গণনা করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) বিভাগের অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা রেকর্ড ১ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছেছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের বিশ্লেষণ বলছে, আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, যারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ১ হাজারেরও বেশি ভুয়া বিয়ে আয়োজন করে প্রধানত চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নিয়মে একজন গ্রিন কার্ডধারী অন্তত পাঁচ বছর বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী, কর্মী বা অন্য অস্থায়ী ভিসায় কাটানো সময় এই পাঁচ বছরের হিসাবে ধরা হয় না। সময় গণনা শুরু হয় গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর থেকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। এই নিয়মে সরকারি সুবিধা গ্রহণকারী অভিবাসীদের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিতে অস্বীকার করার সুযোগ পাবেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের আঘাত পড়েছে মার্কিন নাগরিকদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রীদের ওপরেও। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে কড়া যাচাই এবং বহিষ্কারের আওতা বৃদ্ধির ফলে এই শ্রেণির অভিবাসীরা নতুন সংকটে পড়েছেন।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গ্রিন কার্ডধারীদের পুনরায় দেশে প্রবেশে বাধা দিতে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রাখার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত। ছয়-তিন ভোটে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর মার্কিন অভিবাসন সেবা সংস্থা ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া আবার শুরু করেছে। বাংলাদেশও এই ৩৯টি দেশের একটি।
মার্কিন ফেডারেল আদালত নিজের আগের রায় সাময়িক স্থগিত রেখেছেন, ফলে ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ও আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া আবার আটকে যেতে পারে।
৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের পারমিট প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আদালতের আদেশ মানতে অস্বীকার করার পর প্রশাসন উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করেছে।
গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে—মার্কিন সরকারের এমন ঘোষণাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ অভিবাসীকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না এবং নীতিতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে আগ্রহী অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ আবেদনকারীকে এখন নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করা ৬০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী বাব্বলজিৎ কৌড় ওরফে বাবলিকে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত ধাপের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত অভিবাসন ভিসা পেতে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলার দিলেই মিলবে ‘গোল্ড কার্ড’। গত শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার "শর্টকাট" হিসেবে দেখছেন।