টেক্সাসের মহাসড়কে বিমান বিধ্বস্ত, আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে ছুটে এলেন পথচারীরা

টেক্সাসের লারেডো শহরে মঙ্গলবার রাতে একটি ব্যবসায়িক জেট বিমান মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। পথচারীরা জীবন বাজি রেখে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।

Jun 17, 2026 - 15:38
টেক্সাসের মহাসড়কে বিমান বিধ্বস্ত, আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে ছুটে এলেন পথচারীরা
সেসনা সিটেশন ল্যাটিটিউড বিজনেস জেট — লারেডোয় বিধ্বস্ত বিমানের একই মডেল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরে মঙ্গলবার রাতে একটি ব্যবসায়িক জেট বিমান মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে ছয়জন ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পর সেটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা গাড়িচালকরা গাড়ি থামিয়ে বিমানের ককপিটের কাঁচ ভেঙে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে ছুটে যান।

লারেডো পুলিশ বিভাগের তদন্তকারী হোসে বায়েজা জানান, রাত ১০টার কিছু পরে লারেডোর লুপ ২০ মহাসড়কে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। একটি ড্যাশক্যামের ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানটি মহাসড়কে ছুটে যাচ্ছে এবং একটি আলোর খুঁটি ভেঙে থামছে। ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে তিনি বিমানে ছিলেন নাকি মাটিতে ছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিমানটি ছিল একটি সেসনা সিটেশন ল্যাটিটিউড টুইন জেট, যা মেক্সিকোর লস কাবোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়েছিল। ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পাশে হেলে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিচে নেমে আসতে বাধ্য হয়।

দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসী ও পথচারীরা হাতুড়ি ও বেলচা নিয়ে ছুটে আসেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জায়রা গার্জা বলেন, পুরো ঘটনাটি সিনেমার দৃশ্যের মতো লাগছিল এবং বিমানে আগুন দেখে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন এটি যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। উদ্ধারকারীরা বিমানের দরজা ধরে রাখতে রড ব্যবহার করেন এবং অবশেষে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে সফল হন।

বিমানটি নেটজেটসের মালিকানাধীন, যা ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কোম্পানির অধীনে। ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা ধোঁয়া শ্বাসে নেওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। উল্লেখ্য, এটি মাত্র তিন দিনের মধ্যে তৃতীয় বড় বিমান দুর্ঘটনা। এর আগে সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে একটি বি-৫২ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হন।