বাংলাদেশের শিশুদের শরীরে মাত্র দুটো ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিআইসিইউতে গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের শরীরে ৯৬ ভাগ অ্যান্টিবায়োটিকই অকার্যকর। কেবল টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন নামের দুটি ওষুধ এখনো কাজ করছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) এ বছরের প্রথম চার মাসে পরিচালিত একটি গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের শরীরে প্রথম সারির প্রায় সব অ্যান্টিবায়োটিকই সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
গবেষণায় পাওয়া যায়, শিশুদের শরীরে ৯৬ ভাগ অ্যান্টিবায়োটিকই আর কোনো কাজ করছে না। বর্তমানে কেবল টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন নামের দুটি ওষুধ এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কলিস্টিনও দ্রুতই কার্যকারিতা হারাতে পারে।
পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম সারির ছয়টি ওষুধের গড় রেজিস্ট্যান্সের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এপ্রিল মাসে সেটি এক লাফে শতভাগে পৌঁছে যায়। এর ফলে যে রোগ সারতে আগে ছয় দিন লাগত, তা এখন দ্বিগুণ সময়েও সারছে না।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব শিশু আগেও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছিল তাদের শরীরে একাধিক ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি। যেসব শিশু ৪৮ ঘণ্টার বেশি ভেন্টিলেশনে থাকে বা দীর্ঘ সময় পিআইসিইউতে থাকে, তারাও এই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
গবেষক দলের প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যখন-তখন অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং ওষুধের কোর্স সম্পূর্ণ না করাই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়। শিশুদের সুস্থ রাখতে এমন পরিবেশ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তারা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় এমন অসুস্থতায় না পড়ে।