রূপপুরের পাশাপাশি বাংলাদেশে ভাসমান পারমাণবিক ইউনিট দেওয়ার প্রস্তাব রোসাটমের
মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার রোসাটম মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বাংলাদেশকে একটি ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশকে একটি ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। গত ৯ জুন মস্কোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে রোসাটম মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈচিত্র্যময় জ্বালানি ভবিষ্যতের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর সম্পর্কে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে লিখাচেভ ভাসমান পারমাণবিক ইউনিটের সম্ভাবনার কথা তোলেন।
ভাসমান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো জাহাজ নির্মাণাগারে তৈরি করে সমুদ্রে মোতায়েন করা হয়। এ ধরনের কেন্দ্র থেকে উপকূলীয় বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ, তাপশক্তি এবং লবণমুক্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব। স্থলে ব্যাপক নির্মাণকাজ ছাড়াই এটি চালু করা যায়।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে রূপপুরের ইউনিট-১-এ জ্বালানি সংযোজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর জন্য রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। রোসাটম কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন হবে এবং ইউনিট-২ আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে চালু হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিঅ্যাক্টর প্রকৌশল, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি পরমাণু বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে রাশিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। স্থানীয় দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিখাচেভ এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মস্কো সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশ ফেডারেশনের সিনেটের উপ-স্পিকার কনস্তান্তিন কোসাচেভের সঙ্গেও বৈঠক করেন। দুই দেশের মধ্যে আইনসভা সহযোগিতা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের বিষয়ে তারা আলোচনা করেন।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার