ইসরায়েল ডে প্যারেডে যাচ্ছেন না নিউইয়র্ক মেয়র, ইহুদি সংগঠনগুলোর ক্ষোভ
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি চলতি বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ইসরায়েল ডে প্যারেড’-এ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। শহরে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি চলতি বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ইসরায়েল ডে প্যারেড’-এ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। শহরে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন।
১৯৬৪ সালে প্যারেডটি শুরুর পর থেকে নিউইয়র্কের দায়িত্বে থাকা প্রতিটি মেয়র এতে অংশ নিয়েছেন। ফলে মামদানির অনুপস্থিতিকে কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও নাগরিক ঐতিহ্য ভাঙার ঘটনা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
সাবেক মেয়রি এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনে অ্যান্টিসেমিটিজমবিরোধী দপ্তরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোশে ডেভিস বলেন, “নিউইয়র্ক ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক নিয়ে গর্ব করে এসেছে। প্যারেডে অংশ না নেওয়া শহরের ইতিহাসের প্রতি অসম্মান।”
আসছে ৩১ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্যারেডে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা। তাদের দাবি, মামদানির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষ বৃদ্ধির উদ্বেগ—দুই কারণেই এবার অংশগ্রহণ বাড়ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে মামদানি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজনৈতিক নীতিগত অবস্থানের কারণে তিনি অনেক ঐতিহ্যবাহী প্যারেডে অংশ নাও নিতে পারেন। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, ইসরায়েল ডে প্যারেডে না গেলেও অনুষ্ঠানটির নিরাপত্তা ও অনুমতির বিষয়ে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কে ইহুদি জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি অংশ নেব। তবে ইসরায়েল ডে প্যারেডে উপস্থিত না থাকার অর্থ এই নয় যে আমি এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করব না। আমি সব মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করি।”
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশ। নিউইয়র্কের দুটি প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন— ইউজেএ-ফেডারেশন অব নিউইয়র্ক এবং জিউইশ কমিউনিটি রিলেশনস কাউন্সিল অব নিউইয়র্ক—মামদানির আয়োজিত একটি ইহুদি ঐতিহ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।
এদিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল প্যারেডে অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শহরে বাড়তে থাকা অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ ইহুদি হলেও ঘৃণাজনিত অপরাধের অর্ধেকের বেশি তাদের লক্ষ্য করে সংঘটিত হচ্ছে। তিনি ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাবও ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যান্টিসেমিটিজম বিষয়ক বিশেষ দূত রাব্বি ইয়েহুদা কাপলুন বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। তা না হলে অ্যান্টিসেমিটিক কর্মকাণ্ড বাড়ার দায় তাদেরও নিতে হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্যারেডে প্রথমবারের মতো কিছু মুসলিম সংগঠনও ইহুদি সংগঠনগুলোর সঙ্গে অংশ নেবে। পাশাপাশি এশিয়ান-আমেরিকানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও বাড়ানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ