আমি চাই না, সীমান্তে কারও বাবা-মা তাদের সন্তান হারাক: ফেলানীর ভাই আরফান
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এ সৈনিক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনীতে শপথ নেন তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এ সৈনিক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনীতে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকে আরফান হোসেন বলেন, ‘২০১১ সালে আমার বয়স ছিল মাত্র ৬–৭ বছর। তখন সীমান্তে আমার বড় বোন ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই আমার মা–বাবার ইচ্ছা ছিল, আমি যেন বিজিবিতে বা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। সেই লক্ষ্য নিয়েই নিজেকে প্রস্তুত করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছিল, আর আজ আমি নিজেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বাবা–মা তাদের সন্তান হারাক। একজন বিজিবি সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।’
আরফানরা তিন ভাই ও দুই বোন। ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আরফান। গত বছর বিজিবির সার্কুলার হলে আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে চার মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এবার কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে, যা আজও আলোচনায় রয়েছে।
ডালাস বার্তা প্রতিবেদক