সুইজারল্যান্ডের বারে আগুনে মৃত্যু ৪০, শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো আতশবাজি থেকে দুর্ঘটনা

নতুন বছরের শুরুতেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রানস-মন্টানার একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১৯ জন, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

Jan 3, 2026 - 00:47
সুইজারল্যান্ডের বারে আগুনে মৃত্যু ৪০, শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো আতশবাজি থেকে দুর্ঘটনা
শ্যাম্পেন বোতল থেকে আগুনের ফুলকি সিলিংয়ের দাহ্য উপকরণে লেগে আগুন ধরে যায়। ছবি: সংগৃহীত

নতুন বছরের শুরুতেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট ক্রানস-মন্টানার একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১৯ জন, যাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম প্রহরেলে কনস্টেলেশননামের ওই নাইটক্লাবে শ্যাম্পেনের বোতলের সঙ্গে লাগানো ছোট আতশবাজি বা স্পার্কলার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভ্যালাইস অঞ্চলের অ্যাটর্নি জেনারেল বিয়াত্রিস পিলউড জানান, জ্বলন্ত স্পার্কলার সিলিংয়ের খুব কাছে চলে আসায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ক্লাবটিতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ছবিতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে উঁচিয়ে ধরা শ্যাম্পেন বোতল থেকে আগুনের ফুলকি সিলিংয়ের দাহ্য উপকরণে লেগে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ক্লাবটির ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা, অনুমোদিত ধারণক্ষমতা এবং সিলিংয়ে ব্যবহৃত ফোমের মান যাচাই করা হবে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। তবে ক্লাবের মালিকপক্ষ দাবি করেছে, গত ১০ বছরে তিনবার পরিদর্শনে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি।

পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডরিক গিসলার জানান, নিহত ৪০ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে। আহত ১১৯ জনের মধ্যে ১১৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের মধ্যে ৭১ জন সুইজারল্যান্ড, ১৪ জন ফ্রান্স ১১ জন ইতালির নাগরিক। আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দস সান্তোস রয়েছেন; তাঁকে হেলিকপ্টারে করে জার্মানিতে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ প্রায় ৫০ জনকে ইউরোপের বিভিন্ন বার্ন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এখনো কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন তাঁদের স্বজনরা। ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় কিশোর অ্যাচিল বারোসির সন্ধান মেলেনি। তাঁর খালা ফ্রান্সেসকা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা জানি না সে বেঁচে আছে কি না।নিখোঁজদের পরিবারের সহায়তায় একটি বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতঙ্কের মধ্যেও অনেকেই জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রিস্টান ফিশার বলেন, তাঁর ১৭ বছর বয়সী ভাই জানলার কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজনকে আগুনের মধ্য থেকে বের করে আনেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লি জেহন্ডার জানান, দগ্ধ মানুষের আর্তনাদ ছিল হৃদয়বিদারক।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আগামী জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন সুইজারল্যান্ডজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি