বিশ্বকাপে অভিবাসীদের জন্য আইসিই-র ভয়, ইরানি দর্শকরাও স্টেডিয়ামে যেতে পারছেন না

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসী দর্শকরা আইসিই গ্রেপ্তারের ভয়ে স্টেডিয়ামে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ইরানের দর্শকদের টিকিটও বাতিল করা হয়েছে।

Jun 15, 2026 - 07:49
বিশ্বকাপে অভিবাসীদের জন্য আইসিই-র ভয়, ইরানি দর্শকরাও স্টেডিয়ামে যেতে পারছেন না
মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্ত (তিহুয়ানা, মেক্সিকো)। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু অনেক অভিবাসী দর্শক ভয়ে মাঠে যেতে পারছেন না। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-র উপস্থিতির কারণে বহু মানুষ বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম এড়িয়ে চলছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বিশ্বকাপের ১১টি আয়োজক শহরে এক লাখ ৬৭ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানের দর্শকদের টিকিট বরাদ্দ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাতিল করে দেওয়া হয়। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ইরানি সমর্থকরা অংশ নিতে পারেননি। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, এই সিদ্ধান্তে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

ইরাকের দলের হামলাকারী ফুটবলার আইমান হুসেইনকে শিকাগোর ও-হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সোমালিয়ার একজন রেফারিকে মিয়ামি বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ম্যানুয়েল নামে একজন লাতিন আমেরিকান আশ্রয়প্রার্থী গত বছর নিউজার্সিতে ফিফা ম্যাচ দেখতে গিয়ে আইসিই-র হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১১ সপ্তাহ আটকে থাকার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি এখন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীরা যেন বিশ্বকাপ মাঠে না যান।

একশোরও বেশি মানবাধিকার সংগঠন বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করেছে। তারা বলেছে, সীমান্তে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং ফোন তল্লাশির ঘটনা ঘটছে। অভিবাসী সম্প্রদায়গুলো বিশেষত বাংলাদেশি আমেরিকানরা এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

সূত্র: আল জাজিরা, ফ্রান্স ২৪, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ