‘কিচেন কেবিনেট’-এর সিদ্ধান্তেই চলত অন্তর্বর্তী সরকার: তৌহিদ হোসেন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং সে কারণেই তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং সে কারণেই তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সোমবার (২৫ মে) এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান, প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় ওই গোষ্ঠীর বৈঠক হতো এবং সেখানেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তাঁর ভাষায়, “আমি যমুনাতে তাদের একটি বৈঠকে একবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত কেউ কেউ নেয়—এমন কথাবার্তা আমার কানেও আসত।”
তিনি দাবি করেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্যদের অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। এই পরিস্থিতিতে একাধিকবার পদত্যাগের কথা ভাবলেও সরকারের অস্বস্তির কথা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তা করেননি বলে জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা প্রসঙ্গে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, “ডিপ স্টেট পৃথিবীর সব ঘটনার সাথেই যুক্ত থাকে। তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তৌহিদ হোসেন। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে ওই চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যৌক্তিক হতো।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে পাঠানো চিঠি নিয়েও মন্তব্য করেন তৌহিদ হোসেন। তাঁর মতে, এটি কার্যকর হবে না—তা আগে থেকেই জানা ছিল, তবে কূটনৈতিক প্রথার অংশ হিসেবেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছিল।
নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও মত দেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।”
তবে নতুন সরকার কিংবা তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে এখনই সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি তৌহিদ হোসেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ডালাস বার্তা ডেস্ক