জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কে ফাটল
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সম্পর্কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠায় মার্কিন রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সম্পর্কে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠায় মার্কিন রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত ২৫ অক্টোবর রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে ডিজেল অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাতে শুরু করেন। পরের সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত তেল জাহাজেও হামলা চালানোয় ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। তবে ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়ার প্রায় পাঁচ বছরের বোমাবর্ষণের জবাবে দূরপাল্লার ড্রোন হামলাই তাদের একমাত্র কার্যকর পথ।
জেলেনস্কির অনঢ় অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তি ঘোষণা করেন এবং একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে রাশিয়ার ডিজেলকে বিশ্ববাজারে প্রবেশের অনুমতি দেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে সই করা আইনের অধীনে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তিনি স্থগিত করেন। এর আগে ১১ অক্টোবর ট্রাম্প একতরফাভাবে জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে রাশিয়ার হামলা বরং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনে বিদ্যুৎ খাতের একটি কোম্পানি পরিচালনাকারী সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা সুরিয়া জয়ন্তী।
২০ অক্টোবর অসলোতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইউক্রেন নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করে, যেখানে ট্রাম্পের জামাতা ও দূত জ্যারেড কুশনার রাশিয়ার জ্বালানি শোধনাগারে হামলা বন্ধের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরদিন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত উইটকফ সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে বন্দি মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিতে সম্মত হন পুতিন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের বৈঠক হবে, যা তিন দেশের নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠকের পূর্বসূচি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স