মাচাদোর নোবেল ভাগাভাগির প্রস্তাবে রাজি ট্রাম্প, বললেন এটা হবে ‘বড় সম্মানে’র
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নোবেল পুরস্কার ‘ভাগাভাগি’ করার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাচাদোর সঙ্গে আগামী সপ্তাহে সাক্ষাৎ হলে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর বা ভাগাভাগির কোনো সুযোগ নেই।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নোবেল পুরস্কার ‘ভাগাভাগি’ করার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাচাদোর সঙ্গে আগামী সপ্তাহে সাক্ষাৎ হলে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর বা ভাগাভাগির কোনো সুযোগ নেই।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে মাচাদো তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নোবেল পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি আগামী সপ্তাহে (যুক্তরাষ্ট্রে) আসছেন। তার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।’ মাচাদো পুরস্কারটি তাকে দিতে চান—এ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটি তাঁর জন্য হবে ‘বিরাট সম্মানের’।
তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ও নোবেল ইনস্টিটিউট এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হয়ে গেলে তা আর প্রত্যাহার, ভাগাভাগি বা অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং তা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য।’
নোবেল নিয়ে এই আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, তাদের কূটনীতিকদের একটি দল শিগগিরই ওয়াশিংটনে যাবে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলা বিষয়ক মার্কিন ইউনিটের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শুক্রবার কারাকাসে পৌঁছেছেন। এই দলে অন্তর্বর্তীকালীন শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ম্যাকনামারাও রয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হওয়ার ঘটনাকে ‘আগ্রাসন’ ও ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেয় ভেনেজুয়েলা সরকার। তীব্র এই উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সদ্য শপথ নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনগামী প্রতিনিধিদলে থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
হোয়াইট হাউস এখনো মাচাদোর সফরের বিস্তারিত জানায়নি। তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাচাদো। তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের অভিযোগে মাদুরো দম্পতিকে বিচারের মুখোমুখি করে ট্রাম্প যে ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে ভেনেজুয়েলার জনগণ কৃতজ্ঞ। এই কারণেই তিনি নিজের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ভাগ’ করে নিতে চান বলে জানান।
গত অক্টোবরে নোবেলজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণার পর ট্রাম্পের সঙ্গে মাচাদোর আর সরাসরি কথা হয়নি। মাদুরোর শাসনামলের শেষ দিকে আত্মগোপনে থাকা মাচাদোর পক্ষে তার মেয়ে নরওয়ের অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ করেন। মাচাদো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশে ফিরে তিনি নির্বাচন আয়োজন করে মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণ করবেন।
উল্লেখ্য, দুই বছর আগে বিরোধীদলের প্রাইমারিতে জয়ী হলেও মাদুরো সরকার মাচাদোকে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়নি। পরে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তদন্তে ওই নির্বাচনের ফলাফল ভুয়া ছিল বলে উঠে আসে।
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নেতা দেলসি রদ্রিগেজের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রই আপাতত ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’। তবে কবে নির্বাচন হবে—সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি দেননি তিনি।
একই সঙ্গে মাচাদোর নেতৃত্বে নিজের অনাস্থার কথাও খোলাসা করেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মাচাদোর পক্ষে নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। তিনি ভালো মানুষ হতে পারেন, কিন্তু দেশের ভেতরে তার প্রতি জনগণের সমর্থন বা শ্রদ্ধা নেই।’
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে তিনি মাচাদোকে বসতে দেননি, কারণ তিনি নোবেল জিতেছিলেন। তবে সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই খবরের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: এনবিসি ৫, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট