বার্কলে ল স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাজে এআই নিষিদ্ধ, টেক্সাসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নজরে
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউসি বার্কলে স্কুল অব ল। ২০২৬ সালের সামার সেশন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নীতিমালায় অধিকাংশ গ্রেডভিত্তিক কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউসি বার্কলে স্কুল অব ল। ২০২৬ সালের সামার সেশন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নীতিমালায় অধিকাংশ গ্রেডভিত্তিক কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টের ধারণা তৈরি, আউটলাইন লেখা, খসড়া প্রস্তুত, সম্পাদনা, অনুবাদ বা সংশোধনের কাজে এআই ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার সময়ও এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। এমনকি ক্লাসের লেকচার, স্লাইড বা শিক্ষাসামগ্রী জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন পেশার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী দক্ষতা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এআই–ভিত্তিক বিশেষ কোর্সে সীমিত ব্যবহার অনুমোদন দিতে পারবেন শিক্ষকরা, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের পূর্ণ বিবরণ জানাতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে বাড়তি আলোচনা শুরু হয়েছে টেক্সাসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। কারণ, এআই ব্যবহারের কারণে ‘গ্রেডফ্লেশন’ বা অস্বাভাবিকভাবে ভালো ফল বাড়ার প্রবণতা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের ২০২৬ সালের উচ্চশিক্ষা–বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৭ শতাংশ কলেজ শিক্ষার্থী সপ্তাহে অন্তত একবার পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করেন। প্রতি পাঁচজনের একজন প্রতিদিনই এআই ব্যবহার করছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (এইচইপিআই)-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছেন এবং ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী মূল্যায়নভিত্তিক কাজেও জেনারেটিভ এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন।
এরই মধ্যে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে উৎস উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কোথাও আবার গোপনে এআই ব্যবহারকে সরাসরি একাডেমিক অসদাচরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
একটি গবেষণাপত্রে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের গবেষকরা ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেক্সাসের একটি বড় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ লাখের বেশি গ্রেড বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায়, যেসব কোর্সে লেখালেখি ও কোডিংয়ের কাজ বেশি, সেখানে চ্যাটজিপিটির আগমনের পর ‘এ’ গ্রেডের হার প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
গবেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের শেখার মান নাটকীয়ভাবে বাড়েনি; বরং অ্যাসাইনমেন্টে এআই ব্যবহারের কারণেই এই পরিবর্তন ঘটেছে।
২০২৬ সালের এক জরিপে কলেজ বোর্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এআই শিক্ষার্থীদের মৌলিক চিন্তা, স্বতন্ত্র লেখালেখি ও একাডেমিক সততার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
টেক্সাসের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য এআই ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্সভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শিক্ষকদের হাতে রাখা হয়েছে। রাইস ইউনিভার্সিটি এআইয়ের গোপন ব্যবহারকে প্লেজিয়ারিজম হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই এখন শিক্ষা ও পেশাজগতে বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মৌলিক মানবিক দক্ষতাও ধরে রাখা।
তথ্যসূত্র: দ্য ডালাস এক্সপ্রেস