টেক্সাসে চার্চে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক নানের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে চার্চে যাওয়ার পথে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর হাতে আটক হওয়া ক্যাথলিক নান সিস্টার লেটিসিয়া উগবোয়াজা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে চার্চে যাওয়ার পথে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর হাতে আটক হওয়া ক্যাথলিক নান সিস্টার লেটিসিয়া উগবোয়াজা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তিনি জানান, ওই ঘটনার পর তিনি ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন রবিবারের প্রার্থনা ও পবিত্র কমিউনিয়নে অংশ নিতে না পেরে।
৫৬ বছর বয়সী উগবোয়াজা গত ২৮ জুন সকালে টেক্সাসের ম্যাকঅ্যালেন শহরের আওয়ার লেডি অব সরোজ চার্চে যাচ্ছিলেন। ধর্মীয় পোশাক পরে হাতে শুধু একটি রোজারি ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে হাঁটার সময় দুইজন সশস্ত্র আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে থামিয়ে আটক করেন। তিনি বলেন, প্রথমে তিনি বুঝতেই পারেননি কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে উগবোয়াজা বলেন, তিনি শুধু নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে চান না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে আইনের অধীনে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটানো অনেক অভিবাসীর কণ্ঠও তুলে ধরতে চান।
উগবোয়াজার আইনজীবী কার্লোস এম. গার্সিয়া জানান, ২০১৯ সালে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হলেও নাইজেরিয়ায় ফিরে গেলে নির্যাতনের ঝুঁকি থাকায় তাঁকে সেখানে ফেরত না পাঠানোর আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বৈধভাবে কাজের অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সব শর্ত মেনে চলছেন।
আইনজীবীর দাবি, আটকের সময় আইসিই কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট কারণ জানাননি। পরে তাঁরা জানতে পারেন, উগবোয়াজাকে নাইজেরিয়ায় নয়, অন্য একটি তৃতীয় দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা সমালোচনা করে আসছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় চার্চ নেতারা এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উগবোয়াজাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে তাঁর মামলার বিষয়ে আইসিই এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কোনো মন্তব্য করেনি।
উগবোয়াজা দক্ষিণ টেক্সাসে একজন নিবন্ধিত নার্স হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠন ডটার্স অব মেরি মাদার অব মার্সি-এর সদস্য। তাঁর ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে, যাতে তিনি ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অন্য অভিবাসীদের পক্ষেও কথা বলতে পারেন।
সূত্র: এপি