যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমায় ভোক্তা আস্থা কিছুটা ফিরছে
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম কমে আসায় ভোক্তা আস্থা সামান্য বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার মানুষের ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি করলেও জ্বালানি খরচ কমায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে আসায় ভোক্তাদের মধ্যে আস্থা সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তাদের মনোভাব রেকর্ড নিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। তবে গরমের মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও সারা দেশে তেলের চাহিদা সামান্য কমে যাওয়ায় পেট্রোলের মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
এর ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগের চেয়ে একটু বেশি আশাবাদী হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জ্বালানি খরচ কমলে মধ্য ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে কিছু বাড়তি অর্থ অবশিষ্ট থাকে, যা খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও বিনোদনের মতো খাতে ব্যয় হতে পারে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তা ব্যয় মার্কিন অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকা শক্তি; তাই এই স্বল্প মেয়াদি উন্নতি বাজারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই আস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আয়ের বৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনও খাদ্য ও বাসাভাড়ার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার উঁচু রাখছে যাতে অর্থনীতি শীতল হয় ও মূল্যস্ফীতি কমে। অনেক পরিবার গাড়ি বা বাড়ির মতো বড় কেনাকাটায় দ্বিধাগ্রস্ত। ফলে ভোক্তা আস্থার সাম্প্রতিক উন্নতি স্বল্পপরিসর ও অনিশ্চিত।
রয়টার্স বলছে, বাজারের বিশ্লেষকরা এখন নজর রাখছেন আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির গতিপ্রবাহের দিকে। যদি জ্বালানি ও খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি আরও কমে এবং চাকরির বাজার শক্তিশালী থাকে, তবে বছরের শেষ নাগাদ ভোক্তা আস্থা আবারও বাড়তে পারে।
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আশা, সরকার ও ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পরিবারের জন্য ত্রাণ বয়ে আনবে। এসব অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, গ্যাসের দাম কমার সুবাদে সাধারণ মানুষ এখন খানিকটা নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক আশাবাদ ধারণ করছে।